তামাকজনিত রোগে বছরে প্রাণ হারাচ্ছে ১.৬১ লাখ মানুষ

জাতীয়
তামাকজনিত রোগে বছরে প্রাণ হারাচ্ছে ১.৬১ লাখ মানুষ
নিউজ ডেস্ক
১৩ আগস্ট ২০২৫

বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে প্রাণ হারান প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষ—এমন ভয়াবহ পরিসংখ্যান তুলে ধরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, “তামাক এখন আর শুধু অভ্যাস নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় হুমকি।”

রাজধানীতে আয়োজিত এক কর্মশালায় আজ বুধবার তিনি এ মন্তব্য করেন। কর্মশালার শিরোনাম ছিল ‘জনস্বার্থ বনাম তামাক কোম্পানির প্রভাব: তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ত্বরান্বিতকরণে সাংবাদিকদের ভূমিকা’, আয়োজনে সহযোগিতা করে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ।

প্রধান প্রবন্ধে ডা. সোহেল জানান,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

  1. প্রতি বছর ৪ লাখ মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছেন তামাকের কারণে।

  2. প্রতিদিন গড়ে ৪৪২ জন মানুষ অকালে মারা যান তামাক-সম্পর্কিত রোগে।

  3. প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি পরোক্ষ ধূমপানে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিদিন।

তামাকের কারণে হৃদরোগ, ক্যানসার, শ্বাসতন্ত্রের রোগ ক্রমেই বাড়ছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বি বলেন, “তামাক কোম্পানির মতামত নিয়ে আইন সংশোধনের চিন্তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এফসিটিসি চুক্তির ৫.৩ অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। এটি শুধু আন্তর্জাতিক নিয়ম নয়, জনগণের জীবন রক্ষার প্রশ্ন।”

ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার যদি জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার না দিয়ে তামাক কোম্পানির সুপারিশে আইন প্রণয়ন করে, তাহলে তা হবে স্বাস্থ্য খাতের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকরাও মত দেন—তামাক কোম্পানির সঙ্গে নীতিনির্ধারণে সংলাপ বা মতামত গ্রহণ আইনগতভাবে ভুল এবং নৈতিকভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ। বিশেষ করে গত ১৩ জুলাই একটি উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সংশোধনী নিয়ে তামাক শিল্পের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্তকে তারা জনস্বার্থবিরোধী বলে অভিহিত করেন।

প্রস্তাবিত ছয়টি সংশোধনী যা তামাকবিরোধী আন্দোলনে সহায়ক হতে পারে:

১. পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে শতভাগ ধূমপান নিষিদ্ধ।
২. তামাক পণ্যের প্রদর্শনী নিষিদ্ধ।
৩. তামাক কোম্পানির CSR কার্যক্রম নিষিদ্ধ।
4. ই-সিগারেটসহ নতুন পণ্যে কিশোরদের প্রবেশ রোধ।
5. প্যাকেটের স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৫০% থেকে বাড়িয়ে ৯০%।
6. খুচরা ও মোড়কবিহীন তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা নাইমুল আজম খান ও অন্যান্য বক্তারাও বলেন, তামাক কোম্পানির স্বার্থ নয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাই হতে হবে প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক নেতা মাইনুল হাসান সোহেল, তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়ক ডা. অরুনা সরকারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি।