বিশ্বব্যাংকের লাল তালিকায় বাংলাদেশ

জাতীয়
বিশ্বব্যাংকের লাল তালিকায় বাংলাদেশ
নিউজ ডেস্ক
১৪ আগস্ট ২০২৫

বাংলাদেশ টানা চার বছর ধরে বিশ্বব্যাংকের খাদ্য মূল্যস্ফীতির সূচকে ‘লাল তালিকা’তে অবস্থান করছে। ২০২১ সালের জুন থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রতি মাসে দেশটিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৫ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের সূচক অনুযায়ী, যেসব দেশে প্রতি মাসে খাদ্যপণ্যের দাম ৫ শতাংশের বেশি হারে বাড়ে, সেই দেশগুলোকে লাল তালিকাভুক্ত করা হয়। এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতিতে—যেখানে মূল্যবৃদ্ধি ৩০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়—সে দেশের অবস্থান পিঙ্গল তালিকায়। যদিও বাংলাদেশ এখনো সে পর্যায়ে পৌঁছায়নি, তবে একাধিক মাসে কিছু পণ্যের দাম সেই মাত্রা অতিক্রম করেছে।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুলাই মাসে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়ায় ৭.৫৬ শতাংশে। যদিও আগের বছর এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৪ দশমিক ১০ শতাংশে, যা ছিল ২০০৭-০৮ সালের পর সর্বোচ্চ। যদিও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সামান্য কমেছে মূল্যস্ফীতির গতি, তবে তা এখনো স্বস্তির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ মুদ্রানীতি—সব মিলিয়ে খাদ্যপণ্যের বাজারে অস্থিতিশীলতা দীর্ঘমেয়াদি হয়ে উঠেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমছে এবং বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের এই ‘লাল তালিকা’ শুধু একটি সংখ্যা নয়—এটি একটি দেশের আর্থিক স্বাস্থ্য ও বাজার স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। এছাড়া দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ, বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং বৈদেশিক ঋণের শর্তও এই সূচকের ওপর নির্ভর করে।

তবে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বাংলাদেশ মানি লন্ডারিংয়ের ঝুঁকি নিরসনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত দেশের তালিকায় রয়েছে। এর ফলে বৈদেশিক বাণিজ্য ও ঋণের ক্ষেত্রে কিছু সুবিধা মিলছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বাংলাদেশকে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ৫ শতাংশের নিচে নামাতে হলে সমন্বিতভাবে মুদ্রানীতি, আমদানি শুল্ক, কৃষি উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনার ওপর নজর দিতে হবে।

একজন অর্থনীতিবিদ মন্তব্য করেন,

“যতক্ষণ পর্যন্ত খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে টেকসইভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা না যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত অর্থনীতির ভিত দুর্বলই থেকে যাবে।”