আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ অগ্রহণযোগ্য: বুয়েট ভিসি
প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মাঝে শাহবাগ মোড় এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ ও দমন-পীড়নের ঘটনাকে “নির্মম ও অগ্রহণযোগ্য” বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আবু বোরহান মোহাম্মদ বদরুজ্জামান।
বুধবার সন্ধ্যায় শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “সভ্য সমাজে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ দাবি আদায়ের পথে পুলিশের এমন আচরণ কখনো কাম্য হতে পারে না। আমরা এই ঘটনার কঠোর নিন্দা জানাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই।”
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দুপুর দেড়টার দিকে আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে অগ্রসর হলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। পরে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ছোড়া হয় টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামানও ব্যবহার করে। একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করলে অনেক শিক্ষার্থী ও কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন।
ভিসি বলেন, “আমাদের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে, কারো চোখে গ্যাস লেগেছে, কেউ মাথায় আঘাত পেয়েছে। আমরা বুয়েট প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি এবং যারা হাসপাতালে ভর্তি আছেন তাদের খোঁজখবর রাখছি।”
এদিন আন্দোলনকারীরা সরকার ঘোষিত তদন্ত কমিটিকে ‘একতরফা ও অকার্যকর’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং নতুনভাবে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এক সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, প্রকৌশল পেশার মান রক্ষায় এ লড়াই চলবে।
ড. বদরুজ্জামান শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দাবিগুলো যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করুন, আমরা যোগাযোগ করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব। আপনারা কমিটির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নিন।”
তবে শিক্ষার্থীরা কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “এই কমিটি সমস্যা সমাধানের যোগ্য নয়। ওদের এখানে এসে সরাসরি আমাদের বক্তব্য শুনতে হবে।”
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন যে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—
১. প্রকৌশল পেশায় প্রবেশে বিএসসি ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা,
২. ইঞ্জিনিয়ারিং নন-বিএসসি ডিগ্রিধারীদের পদবি অপব্যবহারে আইনগত ব্যবস্থা,
৩. কোটাভিত্তিক পদোন্নতি বাতিল,
৪. দশম গ্রেডের নিয়োগ পরীক্ষা বিএসসি ও ডিপ্লোমা উভয়ের জন্য উন্মুক্ত রাখা,
৫. সরকারের উচ্চ পর্যায়ে প্রকৌশল পেশার মর্যাদা পুনঃস্থাপন।
প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এখন শুধু সড়কে নয়, জাতীয় নীতিনির্ধারণেও আলোচনার কেন্দ্রে। আন্দোলনের ভাষা যেন সংলাপেই প্রতিফলিত হয়—এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সচেতন মহলের।


