ঢাকার তিন বস্তির আধুনিকায়নে চীনের ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ

জাতীয়
ঢাকার তিন বস্তির আধুনিকায়নে চীনের ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ
২৭ আগস্ট ২০২৬

রাজধানীর গুলশান ও ঢাকা-১৭ নির্বাচনি এলাকার কড়াইল, সাততলা ও ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দাদের পুনর্বাসনে আধুনিক আবাসন নির্মাণে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। একবারে পুরো অর্থ বিনিয়োগ করা সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে অর্থায়নের আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে সম্মতি জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনটি বস্তির বাসিন্দাদের জন্য ২০তলা ভবনে ছোট ছোট আবাসিক ইউনিট নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের আয়তন হবে প্রায় ৬০০ থেকে ৬৫০ বর্গফুট। পর্যায়ক্রমে বস্তিতে বসবাসরত পরিবারগুলোকে এসব ফ্ল্যাটে পুনর্বাসন করা হবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

পুনর্বাসিত বাসিন্দাদের কাছ থেকে মাসিক ভাড়া নেওয়া হবে না। তবে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য ইউটিলিটি ব্যবহারের খরচ তাদের বহন করতে হবে। বর্তমানে বস্তিগুলোতে বসবাসরত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।

মীর শাহে আলম বলেন, প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে চীনের কাছে দেওয়া হয়েছে। চীনা পক্ষ এটি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে এবং পুরো অর্থ একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব না হলে অগ্রাধিকার অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে।

বর্জ্য থেকে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

বৈঠকে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমিনবাজারের ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্পে একটি চীনা কোম্পানি কাজ করছে। প্রকল্পটি চালু হলে প্রতিদিনের বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের বেইজিংয়ে হওয়ার কথা রয়েছে।

দাশেরকান্দি প্রকল্পেও চীনা বিনিয়োগের আশা

দাশেরকান্দি পয়োনিষ্কাশন শোধনাগার প্রকল্প পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর জন্যও চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির প্রায় ৩০ শতাংশ সংযোগ কার্যকর হলেও বাকি ৭০ শতাংশ এখনো সম্পন্ন হয়নি।

গুলশান, বারিধারা ও বনানী এলাকার পয়োনিষ্কাশন সংযোগ প্রকল্পের আওতায় আনতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। এ খাতেও চীনের বিনিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

সৌরবিদ্যুৎ ও দক্ষিণ সিটির বর্জ্য নিয়েও আলোচনা

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের বিষয়েও চীনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও গ্রামীণ হাটবাজারের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিলে জমে থাকা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ কাজে পাওয়ার চায়নাকে দ্রুত কাজ শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

ম্যান্ডারিন শেখাতেও চীনের সহায়তা

দক্ষতা উন্নয়ন ও ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানোর ক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা হিসেবে ম্যান্ডারিন শেখাতে চীন থেকে প্রশিক্ষক আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না বলে চীনা পক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মোংলা বন্দর উন্নয়নেও চীনের আগ্রহের কথা বৈঠকে উঠে এসেছে। মোংলা বন্দরের উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে এর যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সফর ও যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।