১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুতে চলবে প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসা

জাতীয়
১ অক্টোবর থেকে সৌরবিদ্যুতে চলবে প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসা

ছবি: সংগৃহীত

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুলশানের বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে সচিবালয়, জাতীয় সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণকে কখন বলব, যখন নিজেরা করব।’

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

শাহে আলম জানান, দেশের প্রস্তুত থাকা ৩ হাজার ৪১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কমপ্লেক্সে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ জন্য মোট ১১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাব অনুসারে এক ঘণ্টার ব্যাকআপসহ ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ লাখ ২৫ থেকে ৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা। এ হিসাব বিবেচনায় প্রতিটি কমপ্লেক্সের জন্য ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীদের দ্রুত এ কাজ বাস্তবায়নে উদ্যোগী হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স একটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা। বিভিন্ন সেবা নিতে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ সেখানে আসেন। একইভাবে ইউনিয়নের হাটবাজারগুলোতেও বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত রয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হলে মানুষ সরাসরি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের প্রক্রিয়া দেখতে পারবেন। এতে নিজেদের বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে তারা উৎসাহিত হবেন।

শাহে আলম আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ছয় মাসের মধ্যে সৌর প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ সম্প্রসারিত করা হবে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে এরই মধ্যে বৃহত্তর কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করছে সরকার। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১২টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এসব প্রকল্পের মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ২০০ মেগাওয়াট, পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৫০ মেগাওয়াট, কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট করে দুটি এবং বাগেরহাটের মোংলায় ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। ঈশ্বরদীতে আরও ৭০ মেগাওয়াটের একটি প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া মৌলভীবাজার, নীলফামারী, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

স্রেডার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত এবং ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৯ মেগাওয়াটের গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।