জ্বালানি তেলের দাম ও পে-স্কেলে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক

জাতীয়
জ্বালানি তেলের দাম ও পে-স্কেলে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা, দেশে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কারণে মূল্যস্ফীতিতে ফের চাপ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অভিঘাতের প্রভাব মূল্যায়নের জন্য আপাতত নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) ১৪তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

সভায় দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এমপিসি। কমিটি লক্ষ্য করেছে, দেশের সাধারণ বা হেডলাইন মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী হলেও তা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য সরকারের নির্ধারিত ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে—এমন কয়েকটি ঝুঁকিও চিহ্নিত করেছে এমপিসি। এর মধ্যে অন্যতম হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, যার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

এর পাশাপাশি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাবও মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ২১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়িয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নকেও মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছে এমপিসি। নতুন বেতন কাঠামোর ফলে মানুষের আয় ও ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সামগ্রিক চাহিদার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নীতি সুদহারে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন না করে আগে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এসব অভিঘাত অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এমপিসি জানিয়েছে, বিশেষ করে এসব পরিবর্তনের প্রভাব মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি এবং ভোক্তা মূল্যসূচকভিত্তিক মূল্যস্ফীতির ওপর কীভাবে পড়ছে, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নীতি সুদহার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে নীতি সুদহার ৫০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছিল। বুধবারের সিদ্ধান্তে সেই হারই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

সভায় এমপিসির সদস্য ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন ড. ফেরদৌসী নাহার এবং মুদ্রানীতি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমাম আবু সাঈদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।