স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা দূর করতে চিকিৎসক নেতাদের পরিকল্পনা চাইলেন রাষ্ট্রপতি
সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ জন্য চিকিৎসক নেতাদের সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এবং বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যখাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশ এখনো পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। দেশে কতসংখ্যক চিকিৎসক, নার্স ও টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন, কী ধরনের অবকাঠামো দরকার এবং কত ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম লাগবে—এসব বিষয়ে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবতকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রেও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল। তিনি বিগত দিনের তদবিরনির্ভর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে যোগ্য ব্যক্তিকে উপযুক্ত পদে দায়িত্ব দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
একই সঙ্গে চিকিৎসকদের গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে চিকিৎসা গবেষণাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকে যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগী হতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে শুধু নতুন প্রতিষ্ঠান বা অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না; বিদ্যমান ব্যবস্থার সুশাসন, জনবল ব্যবস্থাপনা, চিকিৎসা সরঞ্জামের সঠিক ব্যবহার এবং সেবার মান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ড্যাবের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাতে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি চিকিৎসক সমাজকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তবভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


