২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির আগে জনতা ব্যাংকে তিন কর্মকর্তা বদলি, ছুটি বন্ধের অভিযোগ

জাতীয়
২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচির আগে জনতা ব্যাংকে তিন কর্মকর্তা বদলি, ছুটি বন্ধের অভিযোগ
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদোন্নতিতে বৈষম্য নিরসন, প্রয়োজনীয় অর্গানোগ্রাম অনুমোদন এবং সৃষ্ট পদে পদোন্নতির জট নিরসনের দাবিতে কর্মসূচি ঘোষণার পর জনতা ব্যাংক পিএলসিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কর্মসূচির কয়েক দিন আগে সংগঠনের আহ্বায়কসহ তিন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি এবং এর পরপরই আগামী দুই সপ্তাহ কর্মকর্তাদের নৈমিত্তিক ছুটি অনুমোদন না দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনার অভিযোগ উঠেছে।

কর্মকর্তাদের একটি অংশের দাবি, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে সামনে রেখেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধের বিষয়ে কোনো লিখিত আদেশ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। একইভাবে তিন কর্মকর্তার বদলির সঙ্গে কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দেয়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্মকর্তা ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশের উদ্যোগে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। পদোন্নতির সুযোগ তৈরি এবং দীর্ঘদিনের পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতার সমাধানে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

কর্মসূচির কয়েক দিন আগে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মো. মোতাহের হোসেনসহ তিন কর্মকর্তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়। অন্য দুজন হলেন জনি সাহা ও আব্দুল কাইয়ুম।

বদলি আদেশ অনুযায়ী, মো. মোতাহের হোসেনকে ভোলার দৌলতখান বাজার শাখায়, জনি সাহাকে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার শাখায় এবং আব্দুল কাইয়ুমকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর কর্মদিবস শেষে তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নেওয়ার কথা ছিল।

কর্মসূচির আগে সংগঠনের তিন কর্মকর্তার বদলি নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঐক্য পরিষদের নেতাদের অভিযোগ, ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করতেই তাদের বদলি করা হয়েছে। তবে বদলি আদেশে কর্মসূচি কিংবা সংগঠনের কার্যক্রমের কোনো উল্লেখ নেই।

তিন কর্মকর্তার বদলির পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধ রাখার অভিযোগ। একাধিক কর্মকর্তার দাবি, আগামী দুই সপ্তাহ কোনো কর্মকর্তার নৈমিত্তিক ছুটি অনুমোদন না দেওয়ার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ এ বিষয়ে খুদে বার্তাও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চিকিৎসা, বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা জমি রেজিস্ট্রেশনের মতো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আগে থেকেই ছুটির পরিকল্পনা থাকতে পারে। ফলে কোনো লিখিত প্রশাসনিক আদেশ ছাড়াই সব কর্মকর্তার নৈমিত্তিক ছুটি একযোগে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনতা ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ছুটি-সংক্রান্ত এমন সিদ্ধান্তের বিধিবদ্ধ ভিত্তি কী, সেটিই এখন তাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আগামী দুই সপ্তাহের জন্য নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধ রাখার কোনো নির্দিষ্ট লিখিত আদেশ বা বিধান প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, কর্মকর্তাদের পদোন্নতির দাবিতে কর্মসূচি ও সংগঠনের তৎপরতাকে ভিন্নভাবে দেখছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মজিবুর রহমান বলেন, এটি জনতা ব্যাংকের বিরুদ্ধে ‘গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’। তার দাবি, কয়েকজন কর্মকর্তা পদোন্নতির নামে ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। এ বিষয়ে একটি ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়ার কথাও জানান তিনি।

এমডির ভাষ্য, অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী কর্মকর্তাদের নিয়মিত পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।

তবে কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পদোন্নতির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য, প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি ও অনুমোদন এবং সৃষ্ট পদে পদোন্নতির জটিলতা রয়েছে। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের দাবি জানিয়ে আসছে ঐক্য পরিষদ।

ঐক্য পরিষদের নেতাদের আরও অভিযোগ, ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের একটি বিভাগের পক্ষ থেকে ফোন করে সতর্ক করা হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তা এসব ফোনকে চাপ প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন।

তবে ফোন করে সতর্ক করার অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঐক্য পরিষদের নেতারা বলছেন, তারা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ব্যক্তিগত বিরোধে যেতে চান না। কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, অর্গানোগ্রাম ও পদায়ন-সংক্রান্ত সমস্যাগুলো স্বচ্ছ ও নীতিমালাভিত্তিকভাবে সমাধান করাই তাদের মূল লক্ষ্য। এ জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনাকেই তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পালন করা হবে।

সব মিলিয়ে কর্মসূচির আগে তিন কর্মকর্তার বদলি, নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধের অভিযোগ এবং কর্মসূচি থেকে বিরত রাখতে কর্মকর্তাদের ফোন করার কথিত ঘটনা নিয়ে জনতা ব্যাংকে আলোচনা বাড়ছে।

তবে এখন পর্যন্ত এসব ঘটনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্রের কোনো লিখিত প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। একইভাবে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই তিন কর্মকর্তার বদলি কিংবা নৈমিত্তিক ছুটি বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।