বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি: মাহদী আমিন

জাতীয়
বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি: মাহদী আমিন
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই আগে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিষয়টি নিয়ে মাহদী আমিনের বক্তব্যের খবর একাধিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের প্রয়োজন এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। তবে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বোয়িং ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মধ্যে ১১টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর হয়। বোয়িংয়ের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণ এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে বলে এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়েও একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানান মাহদী আমিন। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ছাড়াই পৃথক একটি সাইডলাইন বৈঠকে এটি স্বাক্ষরিত হয়।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে বাংলাদেশের পক্ষে রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জ্যাকব হেলবার্গ এই এমওইউতে স্বাক্ষর করেন। এতে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহার, পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, সেফগার্ডস ও বিস্তার রোধের সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসংঘকেন্দ্রিক কর্মসূচির বাইরে সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোট ১১টি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও আলোচনা করেছেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘের চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তরুণ ও নারীদের উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের পরিকল্পনা ও নীতির কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তির পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী মোট ৩০টি কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘসংশ্লিষ্ট আটটি কর্মসূচি এবং বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বহুপক্ষীয় অনুষ্ঠান।

রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন বিষয়েও সফরকালে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।

মাহদী আমিনের ভাষ্য, সফরটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন ও সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন।