বোয়িং কেনা নিয়ে ‘না বুঝে কথা না বলার’ আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উদ্দেশে ‘বিষয়গুলো না বুঝে কথা না বলার’ আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, কাউকে খুশি করার জন্য নয়, দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিমানবহর সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রয়োজনকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ এবং সফরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক ও ইরানের প্রেসিডেন্ট, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ভুটান, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। এছাড়া কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গেও তিনি বৈঠকে অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। জাতিসংঘের মহাসচিব, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হয়েছে।
এ ছাড়া ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারী এবং বোয়িং গ্লোবালের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
হুমায়ুন কবির বলেন, এসব বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। সামগ্রিকভাবে জাতিসংঘে বাংলাদেশের এবারের অংশগ্রহণকে সরকার গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে।
বোয়িং কেনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, বিমানবহর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে সন্তুষ্ট করার জন্য নেওয়া হচ্ছে না। দেশের প্রয়োজন, যাত্রী চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের বিষয় বিবেচনায় নিয়েই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


