তুষ্টির জন্য নয়, প্রয়োজনেই বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের
যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি রাখতে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে—দেশে এমন আলোচনা থাকলেও তা নাকচ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, কাউকে সন্তুষ্ট করতে নয়, বরং দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের প্রয়োজন অনুযায়ীই বোয়িং উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে। বাংলাদেশকে একটি এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজের সমন্বয়ে একটি বহর প্রয়োজন। তাই দেশের প্রয়োজন ও চাহিদা বিবেচনা করেই বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কাউকে তুষ্ট করার জন্য নয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স চলতি বছর বোয়িংয়ের কাছ থেকে মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে গত এপ্রিলে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের সময় আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য অতিরিক্ত চুক্তি সই করা হয়। নতুন চুক্তিতে পাঁচটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে মার্কিন চাপের কারণে বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা থাকলেও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এমন কোনো উদ্দেশ্যের কথা নাকচ করে দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানবহর সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক নতুন রুট চালুর প্রয়োজন থেকেই উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকেও বিমান কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। বর্তমানে এয়ারবাসের পক্ষ থেকেও নতুন প্রস্তাব এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাসের প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।
ব্রিফিংয়ে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়েও সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, মূলত কারিগরি ও নিরাপত্তা মূল্যায়নের কারণে এ রুটের ফ্লাইট স্থগিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে আগের সরকারগুলোর যথেষ্ট আগ্রহ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ঢাকা-নিউইয়র্ক রুট চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ে কারিগরি ও নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
বিমান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বোয়িং উড়োজাহাজগুলো দীর্ঘমেয়াদে বিমানবহর আধুনিকীকরণ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।


