বোয়িংয়ের পর এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনবে সরকার
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আধুনিকায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িংয়ের পর এবার ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী অক্টোবরেই এ বিষয়ে চুক্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সাম্প্রতিক সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে বোয়িংয়ের সঙ্গে দুটি চুক্তি করেছে সরকার। এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির আওতায় আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স কেনার কথা রয়েছে।
এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের (ইউএনজিএ) সাইডলাইনে বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই করে বিমান। নতুন চুক্তিতে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার এবং ছয়টি ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ রয়েছে। ফলে বোয়িং থেকে বিমানের মোট ক্রয়াদেশ দাঁড়িয়েছে ২৫টি উড়োজাহাজে।
এদিকে এয়ারবাসের প্রস্তাবে রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ছয়টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। এ নিয়ে বিমান ও এয়ারবাসের মধ্যে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অক্টোবরেই চুক্তি সই হতে পারে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় পতাকাবাহী বিমানকে আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক রুটে যোগাযোগ বাড়ানো এবং বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক যাত্রী ও কার্গো হাবে পরিণত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বহর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহরে নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত করার দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপের আওতায় এসব ক্রয় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বোয়িং ও এয়ারবাসের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে বিমানের নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের পাইপলাইনে মোট ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হবে।
বিমানের বহরে দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ যুক্ত করার উদ্যোগকে কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদি বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেখছে। এয়ারবাসের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান থাকায় চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত, মূল্য ও সরবরাহের সময়সূচি চুক্তি সইয়ের পর জানা যাবে।


