সচিবদের ২৩ নির্দেশনা, দুর্নীতির অভিযোগে কমিটি থেকে ডিজিটাল হাজিরা

জাতীয়
সচিবদের ২৩ নির্দেশনা, দুর্নীতির অভিযোগে কমিটি থেকে ডিজিটাল হাজিরা
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন, একই ব্যক্তির বারবার বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত করা, সরকারি দপ্তরে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক করাসহ সচিবদের জন্য ২৩টি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। পরে সভার সিদ্ধান্তগুলো লিখিতভাবে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হয়।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একাধিক কর্মস্থলে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে—এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

একই কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বারবার বিদেশ সফরও নিরুৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধীনস্থ কার্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রতি দুই মাস অন্তর বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠাতে হবে।

পাশাপাশি সরকারি দপ্তরে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সরকারি কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সব সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় হাজিরা মেশিন স্থাপন করতে হবে।

হাজিরার তথ্য কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে সংযুক্ত করার ব্যবস্থা করবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।

সরকারি দপ্তর ও কার্যালয়ের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়গুলোকে প্রতি ১৫ দিন পরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দিতে হবে। পরে তা জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি চাকরি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো কর্মচারী নিজের পক্ষে অন্য ব্যক্তির মাধ্যমে তদবির করলে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার তথ্য সংরক্ষণের জন্য ডোসিয়ার তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

দাপ্তরিক কার্যক্রমে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বাড়াতে ডি-নথিতে বাস্তবায়নযোগ্য সব কার্যক্রম গোপনীয়তা বজায় রেখে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রাপ্ত চিঠিপত্র ও নথি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।

সভার সিদ্ধান্তে শূন্য পদ দ্রুত পূরণ, অপ্রয়োজনীয় ও বিলুপ্তিযোগ্য পদ বাতিল, সেবাপ্রত্যাশীদের হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত এবং সাংগঠনিক কাঠামো হালনাগাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারি কর্মচারীদের কর্মজীবন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ক্যাডারভিত্তিক বার্ষিক প্রতিবেদন পাঠানোর বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

আন্তঃসরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ভূমি ও আইনি বিরোধ আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের মামলা করার প্রবণতা পরিহারের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সরকারি জমি সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, অধিগ্রহণ করা জমির নামজারি সম্পন্ন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব পাঠানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ক্রয় প্রস্তাব সময়মতো জমা দেওয়ার পাশাপাশি অর্থের সংস্থান না থাকলে কোনো ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপন না করার কথাও বলা হয়েছে।

সভায় মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন, খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং সব প্রকল্পের তদারকি আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।