সৌরবিদ্যুৎ ক্রয়ে নতুন দর, ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সা

জাতীয়
সৌরবিদ্যুৎ ক্রয়ে নতুন দর, ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ৭ টাকা ১১ পয়সা
১ অক্টোবর ২০২৬

বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বা মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট (এমপিপি) থেকে বিদ্যুৎ কেনার জন্য ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সংযোগের ভোল্টেজ অনুযায়ী সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ টাকা ১১ পয়সা।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিইআরসির সচিব মো. নজরুল ইসলাম সরকারের সই করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিইআরসির নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ৩৩ কেভি সংযোগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ কিনবে ৬ টাকা ৯৮ পয়সায়। আর ১৩২ কেভি সংযোগের ক্ষেত্রে এ দাম হবে ৭ টাকা ১১ পয়সা।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছেও বিক্রি করা যাবে। এ ক্ষেত্রে উৎপাদক ও গ্রাহক নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করতে পারবেন। তবে সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে নির্ধারিত ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’ পরিশোধ করতে হবে।

সংযোগের ধরন অনুযায়ী এই মাশুল প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থেকে সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার না করলে মাশুল হবে প্রতি ইউনিট ১ টাকা ২২ পয়সা।

সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ব্যবহারের মাশুলের মধ্যে সঞ্চালন, বিতরণ, বিদ্যুতের হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহের ক্ষেত্রে সঞ্চালন ও বিতরণজনিত লসের হিসাবও প্রযোজ্য হবে।

বিতরণ সংস্থাভেদে মাশুলও আলাদা করা হয়েছে। বিপিডিবির জন্য প্রতি ইউনিট ৭০ পয়সা, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের জন্য ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ডিপিডিসির ৮৫ পয়সা, ডেসকোর ৯৯ পয়সা, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ৮৭ পয়সা এবং নেসকোর জন্য ১ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে উৎপাদন ও সরবরাহের হিসাব সংরক্ষণ এবং বিল নিষ্পত্তির সমন্বিত দায়িত্ব পালন করবে বিপিডিবি। কেন্দ্রগুলোর কাছ থেকে নির্ধারিত হারে বিল আদায় করে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাকে প্রযোজ্য মাশুল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করবে সংস্থাটি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ২০২৫ সালে মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালা করা হয়। এর আওতায় সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এক এলাকার বিদ্যুৎকেন্দ্র অন্য এলাকার বড় গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একটি বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘোষিত মাসিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা যাবে। বাকি বিদ্যুৎ সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রির সুযোগ থাকবে।

এর আগে ২৩ আগস্ট মার্চেন্ট পাওয়ারের বিদ্যুতের দাম ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণে গণশুনানি করে বিইআরসি। ওই শুনানিতে কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা সৌরবিদ্যুতের দর প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল।

গণশুনানিতে বিপিডিবি ও কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি বড় শিল্পগ্রাহক হারিয়ে রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে। তাদের বক্তব্য ছিল, শিল্পগ্রাহকরা দিনের বেলায় মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের সৌরবিদ্যুৎ কিনে রাতে আবার বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিতে পারেন।