উড়োজাহাজ নয়, ঝুঁকির ছায়া উড়ছে ঢাকায়: বিমানবন্দর ঘিরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা-আশঙ্কা

অন্যান্য
উড়োজাহাজ নয়, ঝুঁকির ছায়া উড়ছে ঢাকায়: বিমানবন্দর ঘিরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা-আশঙ্কা
নিউজ ডেস্ক
২৩ জুলাই ২০২৫

উত্তরার নীলচে আকাশে যখন হঠাৎ কালো ধোঁয়া চড়াও হয়, তখন বোঝা যায়—এ শহরের আকাশ কেবল স্মৃতি নিয়ে উড়ে না, ঝুঁকি বয়ে বেড়ায়।
সোমবার বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান উত্তরার আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, ঢাকা বিমানবন্দর আজ একটি স্থির বিপদের উৎস।

বিমানবন্দর ঘিরে এখন হাসপাতাল, স্কুল, ফ্ল্যাট আর কল-কারখানার রাজত্ব। একদিকে আধুনিক নগরায়নের কৃতিত্ব, অন্যদিকে এ যেন একটা দুর্ঘটনার প্রতীক্ষা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিমানবন্দরের আশপাশের জনবসতি এতটাই ঘন হয়ে উঠেছে যে যেকোনো দুর্ঘটনা মুহূর্তে ভয়াবহ গণদুর্যোগে রূপ নিতে পারে।

২০ বছর আগেও পরিকল্পনা ছিল বিমানবন্দরটি আরিয়াল বিলে সরিয়ে নেওয়ার। কিন্তু স্থানীয় স্বার্থ আর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সেই পরিকল্পনা হারিয়ে গেছে ফাইলে।
এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধ বা যাত্রীবাহী বিমান চলাচল অনিরাপদ, ঝুঁকিপূর্ণ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ঢাকা বিমানবন্দর পরিচালিত হয় একটি মাত্র রানওয়ে দিয়ে—যা একইসঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক উড়োজাহাজ ব্যবহার করে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী এটি বিরুদ্ধ সিভিল এভিয়েশন নীতিমালার।
সাবেক সেনা পাইলট কর্নেল মো. সোহেল রানা বলেন, “এভাবে সামরিক-বেসামরিক ফ্লাইট একই সঙ্গে পরিচালনা হলে তা কেবল নিয়মভঙ্গ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।”

পাইলটরা বলছেন, একই রানওয়ে ব্যবহারে ফ্লাইট শিডিউল এলোমেলো হয়ে পড়ে। যাত্রীরা প্রায়শই বিমানেই বসে থাকেন ৩০-৪০ মিনিট, কেবল টেকঅফ ক্লিয়ারেন্সের অপেক্ষায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমুদ্রঘেঁষা চট্টগ্রাম বিমানবন্দর বা নবীন সিলেট ও পায়রা বিমানবন্দর হতে পারত কার্যকর বিকল্প।
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ ছাড়া বর্তমান সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।