রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে কী করবেন?
কোলেস্টেরলের নাম শুনলেই অনেকেই আতঙ্কিত হন। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, কোলেস্টেরল সব সময় ক্ষতিকর নয়—বরং শরীরে “ভালো কোলেস্টেরল” বা এইচডিএল (HDL) থাকাও প্রয়োজন। তবে বিপদ শুরু হয় যখন “খারাপ কোলেস্টেরল” বা এলডিএল (LDL) মাত্রা অতিক্রম করে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে তা হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং অন্যান্য মারাত্মক জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।
কোন খাবারে বাড়ছে খারাপ কোলেস্টেরল?
রেড মিট (লাল মাংস):
গরু বা খাসির মাংস প্রোটিনের ভালো উৎস হলেও এতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় স্যাচুরেটেড ফ্যাট। যা রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে দ্রুত। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এই ধরনের মাংস খাওয়া সীমিত করা জরুরি।
প্রসেসড ফুড ও ফাস্টফুড:
সসেজ, স্যালামি, প্যাকেটজাত খাবার, বার্গার, ফ্রাইড চিকেন—এই সব খাবারে থাকে ট্রান্স ফ্যাট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা কেবল কোলেস্টেরলই নয়, হৃদরোগ ও ক্যানসারের আশঙ্কাও বাড়ায়।
অতিরিক্ত মুখোরোচক খাবার ও মসলা:
বেশি তেল-মশলাযুক্ত বা বেকড খাবারে শরীরে জমে ট্রান্স ফ্যাট, যা রক্তনালীতে চর্বি জমিয়ে বাধা তৈরি করে। এছাড়া অতিরিক্ত মিষ্টি, চিজ, প্রক্রিয়াজাত দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও সচেতনতা জরুরি।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে করণীয়:
-
সুষম খাবার গ্রহণ করা (সবজি, বাদাম, মাছ)
-
নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম
-
অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও তেল পরিহার
-
প্রসেসড পানীয় ও কোল্ড ড্রিংকস থেকে দূরে থাকা
-
মানসিক চাপ কমানো ও নিয়মিত ঘুম
চিকিৎসকদের পরামর্শ:
বাংলাদেশে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে দ্রুত। কোলেস্টেরল, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস—এই ত্রয়ীর হাত ধরেই বাড়ছে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি। তাই সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সময়মতো চেকআপই হতে পারে বাঁচার পথ।


