৭ কোটি টাকায় মুজিবমূর্তির প্রকল্প উঠছে একনেকে
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার ‘বাংলাদেশ ফিল্ম সিটি (পর্যায়-২)’ প্রকল্প একনেকে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। গাজীপুরের কবিরপুরে অবস্থিত এই ফিল্ম সিটির দ্বিতীয় ধাপে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০৬ কোটি টাকা, যার মাধ্যমে নির্মিত হবে অত্যাধুনিক শুটিং ফ্লোর, পোস্ট প্রোডাকশন সুবিধা, এবং পর্যটন আকর্ষণ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) জানায়, ফিল্ম সিটির মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধন হবে, যার ফলে নির্মাতারা আর বিদেশে পোস্ট প্রোডাকশনের জন্য যেতে বাধ্য হবেন না।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, “প্রকল্পটি আরো বেশি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য করতে কিছু খাত ছোট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে মূল লক্ষ্য হচ্ছে – একটি টেকসই ও আধুনিক ফিল্ম সিটি গড়ে তোলা, যা দেশের সংস্কৃতি, পর্যটন এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ হবে দুটি শুটিং ফ্লোর, পোস্ট প্রোডাকশন স্টুডিও, প্রশাসনিক ভবন, ঝর্ণা, ঝুলন্ত ব্রিজ, কটেজ, ক্যাবল কার, বাসস্ট্যান্ড ও ইকোপার্ক। পর্যটন উপযোগী এলাকা হিসেবে ফিল্ম সিটিকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারি অর্থে নির্মিত হলেও প্রকল্পটি ভবিষ্যতে আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর্থিক বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে যে, প্রকল্পের নেট প্রেজেন্ট ভ্যালু (এনপিভি) ৩১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং বেনিফিট কস্ট রেশিও ১.০৭ – যা প্রাথমিকভাবে একটি সহনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট অনেকে মনে করছেন, “যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়, এই প্রকল্প চলচ্চিত্র শিল্পে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।” তবে তারা একইসঙ্গে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা ও প্রণোদনা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এই প্রকল্পে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য নির্মাণের প্রস্তাবও রয়েছে, যার মাধ্যমে দেশের চলচ্চিত্রের বিকাশে তার অবদানকে স্মরণীয় করে রাখা হবে।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মতামত, ব্যয় পুনর্মূল্যায়ন এবং যথাযথ কার্যকারিতা যাচাইয়ের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


