ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্যানেল ঘোষণা
এক যুগের বেশি সময় পর ডাকসু নির্বাচনের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের শিক্ষাঙ্গনে ফের সরগরম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সোমবার (১৮ আগস্ট) শিবির ২৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করার পর থেকেই সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
ঘোষিত প্যানেলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে রয়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ঢাবি শিবির সভাপতি এস এম ফরহাদ। এজিএস পদে আছেন সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংরক্ষিত পদে যুক্ত হয়েছেন ইনকিলাব মঞ্চের ফাতিমা তাসনীম জুমা, যা কিছুটা ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুশীল সমাজ ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত হিসেবে পরিচিত ছাত্রশিবিরের এমন সরব উপস্থিতি কিছুটা চমকপ্রদ হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের গন্ধ পাচ্ছেন অনেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক ভিসি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“শিবিরের প্যানেল ঘোষণা প্রমাণ করে, রাজনৈতিক মাঠে জায়গা করে নিতে তারা নতুন কৌশলে ফিরছে। ডাকসুকে তারা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিচ্ছে।”
অন্যদিকে শিবির নেতাদের দাবি, তারা সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন,
“আমরা বিশ্বাস করি, একটি ইনক্লুসিভ নির্বাচন হলে ছাত্রসমাজ প্রকৃত প্রতিনিধি বেছে নিতে পারবে। অতীত নিয়ে নয়, আমরা ভবিষ্যতের শিক্ষার্থী অধিকার নিয়ে কথা বলতে এসেছি।”
ছাত্রলীগ, বাম ছাত্রজোট ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ শিবিরের প্যানেল ঘোষণায় প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন। ছাত্র ইউনিয়নের এক নেতা বলেন,
“যারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থানে ছিল, তাদের জায়গা নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিবিরের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে প্রশাসনের নীরব সম্মতি রয়েছে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে ইতিহাসের দায়, অন্যদিকে ভোটাধিকারের বাস্তবতা—এই দ্বান্দ্বিকতার মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন একটি নতুন পরীক্ষা হয়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রেহান আহমেদ বলেন,
“ছাত্রশিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান বিতর্কিত হলেও, কোনো সংগঠনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ অধিকার প্রশ্নে বাধা দেওয়া সম্ভব নয়—এটাই গণতন্ত্রের কঠিন বাস্তবতা।”
প্যানেল ঘোষণার পর থেকেই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি উঠেছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ বলছে, অতীতে সংঘাতের ইতিহাস বিবেচনায় এবার যেন কোনো সহিংসতা না ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সব পক্ষের প্রতি নিরপেক্ষ আচরণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।


