খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া বিচারক আখতারুজ্জামান পদত্যাগ করেছেন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বহুল আলোচিত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় প্রদানকারী বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান পদত্যাগ করেছেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) তিনি প্রধান বিচারপতির কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে সেটি রাষ্ট্রপতির নিকট পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট সূত্র।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন ড. আখতারুজ্জামান। একই মামলায় তারেক রহমানসহ আরও পাঁচজনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই রায় বিএনপি ও দেশের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয় এবং দীর্ঘদিন আলোচনায় ছিল।
বিচারপতি আখতারুজ্জামান বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে দায়িত্বে ছিলেন, তবে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তাকে ছুটিতে পাঠানো হয়। এরপর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তাকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলে।
গত ১ জুলাই তিনি কাউন্সিলের সামনে হাজির হয়ে নিজ অবস্থানের ব্যাখ্যা দেন। এরপরই আজ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে।
২০২4 সালের ১৬ অক্টোবর দুর্নীতি ও পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে ১২ বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়। একইসঙ্গে তাদের বেঞ্চ পুনর্বিন্যাস করে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখা হয়।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবউদ্দিন পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ বিচারপতি আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধেও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেন।
বিচারপতি আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা না হলেও, তার দেওয়া একাধিক আলোচিত রায়, বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মামলার রায়, বিচার বিভাগে তার অবস্থানকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করেছিল।


