হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত ডাকসু নির্বাচন, ফের অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

অন্যান্য
হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত ডাকসু নির্বাচন, ফের অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা
নিউজ ডেস্ক
১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ফের অনিশ্চয়তায় পড়েছে। আদালতের আদেশে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি হাবিবুল গণি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে দাখিল করা একটি রিটের শুনানিতে এই রায় আসে।

অন্যদিকে, বামজোট মনোনীত মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক পদপ্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলমকে ১৫ দিনের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে ফরহাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করতে বলা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ডাকসু নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি যখন শেষ পর্যায়ে, তখন এই স্থগিতাদেশ শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ ৩৪ বছর পর ডাকসু নির্বাচন শুরু হলেও এর ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও প্রক্রিয়াগত জটিলতায়।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “বারবার নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ায় আমরা হতাশ। এটা শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশের সুযোগ বন্ধ করার একটি কৌশল কিনা, সেটাও ভাবছি।”

আরেকজন বললেন, “ডাকসু নির্বাচন হওয়া উচিত স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য এবং সময়মতো। প্রতিযোগিতা থাকুক, কিন্তু প্রক্রিয়া যেন স্থবির না হয়।”

২৬ আগস্ট প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, ৪৭১ জন প্রার্থী এবার ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে শুধু সদস্য পদেই লড়াই করছিলেন ২১৭ জন।
ভিপি পদে ৪৫ জন, জিএস পদে ১৯ জন এবং এজিএস পদে ২৫ জনসহ মোট ২৮টি পদে বিপুল প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

তবে এখন নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় প্রচারণা, সংগঠনের প্রস্তুতি ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সবকিছুই থমকে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আদালতের এ আদেশের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নতুন এক দৃষ্টান্ত তৈরি হলো। এখন ডাকসু নির্বাচন আবার কখন হবে, কিংবা আদৌ হবে কিনা—তা নির্ভর করছে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত এবং হাইকোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশনার ওপর।

ঢাবি প্রশাসনও এখন অপেক্ষায় রয়েছে আদালতের পরবর্তী দিকনির্দেশনার জন্য। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশন আইনি পরামর্শ নিয়েই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।