ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিল নিয়ে রিট শুনতে অপারগ হাইকোর্ট, বাদ পড়ল রিট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্রার্থিতা বাতিল ও ব্যালট নম্বর পুনর্বহাল চেয়ে করা রিট শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি ফয়েজ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন,
“ডাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে ইতোমধ্যেই আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এ কারণে আমরা এ বিষয়ে কোনো রিট শুনতে আগ্রহী নই।”
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী রিটকারী পক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ করে বলেন,
“আপনারা আগেও ডাকসু নিয়ে রিট এনেছিলেন, তখনও আমরা শুনিনি। এখনো একই বিষয় পুনরায় উপস্থাপন করা হয়েছে। জানলে এটি গ্রহণ করতাম না।”
রিটটি করেন মো. জুলিয়াস সিজার তালুকদার, যিনি ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।
রিটে বলা হয়:
-
তার নাম ও ব্যালট নম্বর (নম্বর ২৬) চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা অবৈধ।
-
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়, যা আইনগত কর্তৃত্বের বাইরে।
-
অভিযোগের বিষয়ে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
রিটে আরও দাবি করা হয়, নাম পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হোক।
জুলিয়াস সিজারের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলেন সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা।
ইলেকশন কমিশন প্রথমে তার প্রার্থিতা অনুমোদন দিলেও পরে আপিল ট্রাইব্যুনালের সুপারিশে চূড়ান্ত তালিকা থেকে তার নাম ও ব্যালট নম্বর বাদ দেওয়া হয়।
জুলিয়াস দাবি করেন, তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য তিনি ২৭ আগস্ট চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠান, যা অকার্যকর হওয়ায় তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।
আদালতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির।
রিট শুনানি চলাকালে আদালত বলেন,
“ঢাবির ভিসি আমাদের আত্মীয়, সেকারণেও এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে নিজেদের বিরত রাখছি।”
এই রায়ের মাধ্যমে ডাকসু নির্বাচনে জুলিয়াস সিজার তালুকদারের প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই আপাতত স্থবির হয়ে পড়েছে। হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে যে, ডাকসু নির্বাচন নিয়ে তারা আর কোনো রিট শুনবে না।


