জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হল সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণা, নেতৃত্বে এলেন নতুন মুখ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ১৯টি হল সংসদের ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সিনেট ভবনে ফল ঘোষণা শুরু হয়। ফল ঘোষণার আগেই প্রয়াত শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন কমিশনের সদস্যসচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম। তিনি জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আয়োজিত এ নির্বাচনে প্রতিটি হলেই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন প্রত্যাশা: কারা নির্বাচিত হলেন?
1.আল বেরুনী হল
-
ভিপি: রিফাত আহমেদ শাকিল
-
জিএস: মুনতাসির বিল্লাহ খান
-
এজিএস: সাদমান হাসান খান
2.নবাব ফয়জুন্নেসা হল
-
ভিপি: বুবলি আহমেদ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়)
-
জিএস: সুমাইয়া খানম
3.জাহানারা ইমাম হল
-
ভিপি: মাহমুদা খাতুন
-
জিএস: রিজওয়ানা বুশরা
4.বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল (১০ নং ছাত্র হল)
-
ভিপি: আসিফ মিয়া
-
জিএস: মেহেদী হাসান
5.১৫ নং ছাত্রী হল
-
ভিপি: শারমিন রহমান (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়)
-
জিএস: মেহনাজ মোহনা
6.শহীদ সালাম-বরকত হল
-
ভিপি: মারুফ হোসেন
-
জিএস: মাসুদ রানা
7.সুফিয়া কামাল হল
-
ভিপি: জান্নাতুল নাইম জেরিন
-
জিএস: রুবিনা জাহান
8.মওলানা ভাসানী হল
-
ভিপি: আব্দুল হাই স্বপন
-
জিএস: হৃদয় পোদ্দার
9.মীর মশাররফ হল
-
ভিপি: খালেদ জুবায়ের
-
জিএস: শাহরিয়ার নাজিম হৃদয়
10.তারামন বিবি হল
-
ভিপি: ফারজানা আক্তার ঊর্মি
-
জিএস: প্রিয়াঙ্কা কর্মকার
11.কামাল উদ্দিন হল
-
ভিপি: রায়হান কবির
-
জিএস: আবরার শাহরিয়ার
12.রোকেয়া হল
-
ভিপি: তাফমিম খানম
-
জিএস: নাবিলা মাহজাবিন
13.জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল
-
ভিপি: রাকিবুল ইসলাম
-
জিএস: আলী আহমেদ
14.২১ নং ছাত্র হল
-
ভিপি: শিহাব
-
জিএস: অলি উল্লাহ
15.রফিক-জব্বার হল
-
ভিপি: মেহেদী হাসান
-
জিএস: শরিফুল ইসলাম জয়
16.তাজউদ্দীন আহমেদ হল
-
ভিপি: মো. সিফাত উল্লাহ
-
জিএস: মাহমুদুল হাসান সাকিব
17.বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল
-
ভিপি: অনিক কুমার বণিক
-
জিএস: মাহমুদুল হাসান ইমন
18.বেগম খালেদা জিয়া হল
-
ভিপি: ফারহানা রহমান
-
জিএস: ফাতেমা তুজ জোহরা
19.১৩ নং ছাত্রী হল
-
ভিপি: মাহদাতুন হাসান
-
জিএস: মহসিনা তুবা
এবারের নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছিল ব্যাপক আগ্রহ, তবে ভোটের আগেই কিছু প্যানেল নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। তবে যারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তাদের অনেকেই ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিত মুখ এবং প্রগতিশীল ভাবধারার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চা এবং নেতৃত্ব সৃষ্টির প্রক্রিয়া। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের জন্য শুভ বার্তা।”
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন,
“দীর্ঘ ৩০ বছর পর আমরা জাকসু নির্বাচন করতে পেরেছি। এটি ছাত্র নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। হলভিত্তিক নির্বাচনের ফলাফল দেখে বোঝা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা সচেতনভাবে ভোট দিয়েছেন।”


