ভুল স্বীকার করলেন হাসিনাপুত্র জয়
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় স্বীকার করেছেন যে, তার মায়ের সরকারের সময়ে “কিছু ভুল” হয়েছিল। তবে তিনি জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে—ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে শেখ হাসিনার সরকার ১,৪০০ মানুষকে হত্যা করেছিল।
এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যদি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেয় এবং সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন আয়োজন না করে, তবে দেশ আবারও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়বে।
জয়ের ভাষায়, “এই নিষেধাজ্ঞা আসলে আমার মা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে দূরে রাখার কৌশল। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা চাইলে নির্বাচন হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও সুষ্ঠু।”
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় নির্বাচন—যে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। হাসিনার পতনের পর তিন দিনের মাথায় মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি সংস্কার ও স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিলেও, গত মে মাসে আওয়ামী লীগের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয় এবং শতাধিক নেতা গ্রেফতার হন।
এদিকে, হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা চলছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, সিপিজে (কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস)সহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংগঠন ইউনূস সরকারের কাছে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত ‘অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, রাজনৈতিক সংগঠনের স্বাধীনতা সীমিত করা গণতন্ত্রবিরোধী পদক্ষেপ।
অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি আসন্ন নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াতে ইসলামীও রাজনীতিতে ফিরে এসেছে এবং ইসলামপন্থি দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে।
জয় আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “যদি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলতে থাকে, তাহলে ইসলামপন্থিরাই লাভবান হবে। ইউনূস সরকার তাদের পরোক্ষভাবে মদদ দিচ্ছে।”
মানবাধিকার প্রসঙ্গে জয় বলেন, “সব হত্যাকাণ্ডই দুঃখজনক—তদন্ত হওয়া উচিত।” তবে তিনি অভিযোগ করেন, ইউনূস সরকার আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকে বন্দি রেখেছে, অন্তত ৫০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বিশেষ করে হিন্দুরা এখন টার্গেট হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সম্প্রতি ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানানো হলে, হাসিনা এটিকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ বলে অভিহিত করেন।
সূত্র: এসোসিয়েটেড প্রেস


