ব্রেস্ট ক্যানসারের নীরব ৫ লক্ষণ অবহেলা করছেন না তো?
বাংলাদেশে ব্রেস্ট ক্যানসার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ নারী প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব না দেওয়ায় রোগ ধরা পড়ে দেরিতে। ফলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। ব্রেস্ট ক্যানসারের কিছু সাধারণ প্রাথমিক সংকেত সামনে এনেছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, স্তনের আকার বা আকৃতিতে হঠাৎ সূক্ষ্ম পরিবর্তন অনেক সময় রোগের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। দুটি স্তনের একটির আকার বড় বা ছোট হয়ে যাওয়া, আকৃতি অসম হওয়া বা কোনো অংশ ভেতরের দিকে দেবে যাওয়া—এসবকেই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এছাড়া ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন যেমন স্তনের ত্বক কমলার খোসার মতো রুক্ষ হয়ে যাওয়া, লালভাব, ফোলা, গরম অনুভূতি বা ত্বক টানটান হয়ে যাওয়াও ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো নিপল ও অ্যারিওলার পরিবর্তন। হঠাৎ নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া, চারপাশের ত্বক খসখসে হওয়া, কিংবা নিপল থেকে রক্তমিশ্রিত বা অস্বাভাবিক তরল বের হওয়া—এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অনেক সময় ব্যথাহীন ছোট গোঁটা বা শক্ত অংশই ব্রেস্ট ক্যানসারের প্রথম সংকেত। এ ধরনের গোঁটা সাধারণত নড়াচড়া করে না এবং হাতে চাপ দিলে শক্ত মনে হয়।
সঙ্গে বগল বা কলারবোনের নিচে লিম্ফ নোড ফুলে ওঠাও উপেক্ষা করার মতো নয়। বগলে ছোট, শক্ত ও ব্যথাহীন গাঁট ক্যানসারের ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
-
কোনো পরিবর্তন দুই সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে
-
স্তনে স্পষ্ট গোঁটা অনুভূত হলে
-
নিপল থেকে অস্বাভাবিক তরল বের হলে
-
বগলে গাঁট ধরা পড়লে
তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
নিয়মিত যেসব অভ্যাস জরুরি
-
মাসে একবার ব্রেস্ট সেল্ফ-এক্সামিনেশন
-
৪০ বছর বয়সের পর থেকে প্রতিবছর ম্যামোগ্রাম
-
পরিবারে ব্রেস্ট ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে অতিরিক্ত সতর্কতা
চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা ও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণই জীবন রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


