“কোনো গুমের ঘটনা জানতেন না” শেখ হাসিনা
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশে কোনো মানুষ গুম হয়েছে কি না, তা জানতেন না ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমনই দাবি করেছেন তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চের সামনে গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার পক্ষে অব্যাহতি চেয়ে করা আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
শুনানিতে আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, প্রসিকিউশনের দাবি হলো শেখ হাসিনা সকল অপরাধের “সূতিকাগার” বা মূল নির্ধারক। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার নির্দেশেই সব গুম ঘটেছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল। তবে তারা এ অভিযোগের কোনো লিখিত প্রমাণ দিতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে কখনো গুম বা অপহরণের নির্দেশ দেননি এবং দেশের এই ধরনের ঘটনার বিষয়ে তার কোনো সরাসরি জ্ঞান ছিল না।
এসময় ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন করেন, রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে এসব অপরাধের দায় কি তিনি এড়িয়ে যেতে পারবেন কি না। আমির হোসেন জবাবে বলেন, “এক দেশে বহু অপরাধ ঘটে, সবকিছু প্রধানমন্ত্রীর নজরে থাকে না। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কোনো গুম বা নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রোপাগান্ডা।”
এই মামলায় শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের জন্য ট্রাইব্যুনাল আগামী রোববার (২১ ডিসেম্বর) দিন ধার্য করেছেন। শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ১০ জন সেনা কর্মকর্তা।
শুনানিতে তিন আসামির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন হামিদুল মিসবাহ, সাতজনের পক্ষে ব্যারিস্টার তবারক হোসেন ভূঁইয়া, শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন এবং অন্যান্য সাবেক কর্মকর্তা ও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আগের দিনও জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টার (জেআইসি) সংক্রান্ত এই মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ পেছানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার আগের ধার্য্য তারিখ স্থগিত করে নতুন দিন ঠিক করেছে।


