তামাক থেকে রাজস্ব আয়ের চেয়ে ব্যয় দ্বিগুণ: বিবৃতি

অন্যান্য
তামাক থেকে রাজস্ব আয়ের চেয়ে ব্যয় দ্বিগুণ: বিবৃতি
নিউজ ডেস্ক
১ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে তামাক চিহ্নিত করে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, বর্তমান আইনকে আরও শক্তিশালী করা ছাড়া অকালমৃত্যু কমানো, স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাপ হ্রাস এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তামাক থেকে সরকারের আয় হয়েছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা; কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির কারণে ক্ষয়ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার কোটি টাকা—আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সংগঠনগুলো জানিয়েছে, দেশে প্রতিদিন ৩৫৭ জন এবং বছরে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যায়। এছাড়া বছরে প্রায় ১৫ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হন। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মারা যায় প্রায় ২৫ হাজার মানুষ, আর ৬১ হাজার শিশু বিভিন্ন রোগে ভোগে।

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে যে, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই তামাক শিল্প বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।

তাদের মতে, আইনকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে অকালমৃত্যু হ্রাস, স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাপ কমানো এবং জাতীয় অর্থনীতিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি, তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে তামাক কোম্পানির আগ্রাসী বিপণন নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।

বিবৃতিতে ৬টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে:

সব পাবলিক স্থান ও গণপরিবহনে ধূমপানের নির্ধারিত স্থান বাতিল করা

বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকপণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা

তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা

ই-সিগারেট থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা

তামাকপণ্যের খুচরা ও খোলা বিক্রি বন্ধ করা

সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৫০% থেকে ৯০% বৃদ্ধি করা

বিবৃতিতে সই করেছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক এবং বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. আসিফ মুজতবা মাহমুদ।