শীতে নিউমোনিয়ার প্রকোপে বাড়ছে শিশুমৃত্যু, রাজধানীর শিশু হাসপাতালে বাড়তি চাপ
রাজধানীতে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগ ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে বেশ কয়েকজন শিশু। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর শ্যামলী শিশু হাসপাতালে এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন স্বজন ও চিকিৎসকরা।
মাত্র এক বছর বয়সী শিশু নুনইয়াকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন তার পরিবারের সদস্যরা। শুরুতে শিশুটি কিছুটা নীরব থাকলেও পরে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল শিশুটি।
হাসপাতালের বহির্বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, শীতজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের ভিড়। দেড় বছরের সাবিতকে নিয়ে মিরপুর কচুক্ষেত থেকে এসেছেন তার মা। কয়েকদিন ধরে জ্বর ও কাশিতে ভুগছে সে। চার মাস বয়সী রুফাইদা এসেছে আমিনবাজার থেকে—ঠান্ডাজনিত সমস্যায় ভুগছে সেও। একইভাবে হেমায়েতপুর থেকে ১৩ মাস বয়সী হুযাইফাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন তার বাবা-মা, যাদের সন্দেহ শিশুটির পেটে গ্যাস্ট্রিকজনিত সমস্যা রয়েছে।
শিশু হাসপাতালের রোগতত্ত্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি একদিনেই বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে এসেছে ২৪৮ জন শিশু। এর মধ্যে সাধারণ ঠান্ডায় আক্রান্ত ৯৮ জন এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ৪৭ জন। ওইদিন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত পাঁচ শিশুকে ভর্তি করতে হয়েছে এবং ছয়জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৪৭ জন নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে।
রোগতত্ত্ব বিভাগের কর্মকর্তা কিংকর ঘোষ জানান, গত এক বছরের মধ্যে চলতি ডিসেম্বরে নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শুধু ডিসেম্বর মাসেই ৩২১ জন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসেছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ও সহকারী অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরী বলেন, “তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে বর্তমানে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস ও ঠান্ডা-কাশির রোগী উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে এ সময় বিশেষ সতর্কতা জরুরি।”
চিকিৎসকরা শীতকালে শিশুদের উষ্ণ রাখা, দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করার পরামর্শ দিয়েছেন।


