অবৈধ পুশ ইন নয় বরং শেখ হাসিনাকে পুশ ব্যাক করেন: ভারতকে দুদু
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুর ভারত-বিষয়ক মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’-এর নাগরিক সমাবেশে তিনি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে পুশ-ইন না করে বরং শেখ হাসিনাকে পুশ-ইন করুন।”
দুদু বলেন, “গত ৫০ বছরে ভারত বাংলাদেশকে প্রকৃত বন্ধুর মতো আচরণ করেনি। তিস্তা চুক্তি হয়নি, বর্ষার সময় প্লাবন—শুকনায় পানির অভাব। এখন আবার সীমান্তে পুশ-ইন চলছে।”
তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তি ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। “তাদের ফিরিয়ে দিন, দেশের জনগণ তা চায়,”—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তবে তার এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে দেখা গেছে ভিন্নমত। অনেকেই এটিকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ কূটনৈতিক শিষ্টাচারের প্রশ্ন তুলছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব হাসান বলেন, “সীমান্ত সমস্যা কিংবা অর্থ পাচার ইস্যুতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে দায়ী করা বা বার্তা দেওয়া নতুন নয়, তবে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের নেতার এমন মন্তব্য কূটনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।”
এদিকে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে একাধিক নেতার পক্ষ থেকে দুদুর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, “এটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করার একটি অপচেষ্টা।”
সামরিক-বেসামরিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে পুশ-ইন সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে যাচাই না করে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হলে তা উভয় দেশের জনগণের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়াতে পারে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং একাধিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি চলমান থাকলেও, রাজনৈতিক বক্তব্যে এ ধরনের অভিযোগ প্রায়শই সামনে আসে। তবে তা সরকারি পর্যায়ে কতটুকু প্রভাব ফেলে, সেটি নির্ভর করে কূটনৈতিক আলোচনার ধারাবাহিকতার ওপর।


