১০০ নারী আসনের প্রস্তাবে শর্তসাপেক্ষে রাজি জামায়াত, চায় পিআর পদ্ধতির ভোট
জাতীয় সংসদে নারী আসন ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০-তে উন্নীত করার প্রস্তাবে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের আলোচনায় উঠে আসে—এই আসনগুলো সরাসরি ভোটের মাধ্যমে পূরণের সুপারিশ। তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এতে শর্ত জুড়ে জানিয়েছে, নির্বাচন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে (PR system) না হলে তারা একমত নয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঐকমত্য কমিশনে যদি পিআর ভিত্তিতে নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে দলটি নারী প্রার্থী দেবে। অন্যথায় তারা এই প্রস্তাবে অংশগ্রহণ করবে না।
জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রায় সব আসনে নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। এমনকি কিছু এলাকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রার্থী দিয়েছে দলটি। তবে নারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে তারা এখনো কোনো নাম প্রকাশ করেনি। অতীতে জামায়াত থেকে নারী সংসদ সদস্য ছিলেন বটে, কিন্তু সবাই সংরক্ষিত আসনে মনোনীত ছিলেন।
জামায়াত নেতাদের ভাষ্য, দলের নারী কর্মীরা পুরুষদের সঙ্গে সমভাবে রাজনীতিতে অংশ নেন না। তারা নারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে দাওয়াতি কার্যক্রম, নারী অধিকার ও ধর্মীয় ইস্যুতে কাজ করেন। নির্বাচনের সময় নারী পর্যায়ে প্রচার চালানো হয়, তবে পুরুষের সঙ্গে মিশ্র প্রচারণা তাদের কৌশলের অংশ নয়।
দলটির নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “নারী আসন ১০০ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা বলেছি—এটি পিআর পদ্ধতিতে হলে সমর্থন করব, নইলে নয়।”
এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াতের নির্বাচনী বিভাগের সদস্য মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত বলেন, “সংরক্ষিত নারী আসনে যদি সরাসরি ভোট হয়, আমরা অবশ্যই প্রার্থী দেব। তবে সিদ্ধান্ত এখনো কমিশনের আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।”
২০০১-২০০৬ মেয়াদে আমেনা বেগম (সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী), হাফেজা আসমা খাতুন (সাইফুল্লাহ মানসুরের মা) এবং সুলতানা রাজিয়া জামায়াতের পক্ষ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও নারী সংরক্ষিত পদে জামায়াত প্রার্থী দিয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে।


