জুলাই ঘোষণাপত্রে চূড়ান্ত মতামত প্রকাশ করল বিএনপি

রাজনীতি
জুলাই ঘোষণাপত্রে চূড়ান্ত মতামত প্রকাশ করল বিএনপি
নিউজ ডেস্ক
১০ জুলাই ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে বহুল আলোচিত ঘোষণাপত্র দ্রুত চূড়ান্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে খসড়া সংশোধনের কাজ চলছে পুরোদমে। বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি সাম্প্রতিক বৈঠকে খসড়া যাচাই-বাছাই শেষে কিছু সংযোজন-বিয়োজন করে নিজেদের অবস্থান চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে।

গেলো মঙ্গলবার ও বুধবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই খসড়াটি নিয়ে বিশ্লেষণ হয়। বৈঠকে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আলোচনায় অংশ নিয়ে নেতারা বলেন, ছাত্র-জনতার দাবি মেনে দ্রুত ঘোষণাপত্র চূড়ান্ত করা উচিত। এ বিষয়ে তারা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

বিএনপির সংশোধিত কপি সরকারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে আছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের কথা ছিল। তবে তখন সরকারের প্রেস উইং এ উদ্যোগ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে। পরে এক জরুরি ব্রিফিংয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি ঘোষণাপত্র তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।

এই ঘোষণাপত্র নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয় আলোচনা ও বিতর্ক। ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের আন্দোলনের চাপে পরে সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের কাছে খসড়া পাঠায়। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপিসহ অন্যান্য দল মতামত দেয়।

তবে প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোনোয় ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন পক্ষ। ৩০ জুন যমুনা বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন আহতরা। একইসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারকে ৩ আগস্টের মধ্যে ঘোষণাপত্র প্রকাশের আল্টিমেটাম দিয়েছে। তা না হলে তারা নিজেরা তা প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে।

প্রস্তাবিত ঘোষণাপত্রে উঠে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূখণ্ডে মুক্তির জন্য যুগে যুগে চলা আন্দোলন, ১৯৪৭ সালের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট।

এতে শেখ হাসিনার পদত্যাগ, ভারতে পালিয়ে যাওয়া এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ‘গণহত্যা, লুটপাট ও মানবতাবিরোধী অপরাধের’ বিচার দাবির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খসড়ায় নতুন করে আরও কিছু অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক ইস্যুও যুক্ত করা হয়েছে।

বিএনপির বৈঠকে আলোচনায় আসে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন সরকারের কাছে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

এ ছাড়া সংসদে নারীদের আসন ৫০ থেকে ১০০-তে বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে ঐকমত্য থাকলেও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে এখনও দলটি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মনোনয়নের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। পাশাপাশি তারা পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতির বিরোধিতা করেছে।

বিএনপির নেতারা বৈঠকে অভিযোগ করেছেন, অনেক ইস্যুতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে ঐকমত্য হলেও সরকার এখনো বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে। তাদের মতে, ঘোষণাপত্র ও সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারকে এখনই সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে।