আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করলেই মুক্তি মিলবে ফ্যাসিবাদ থেকে — মির্জা ফখরুল
দেশে ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ অবসান এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ‘রাজনৈতিক দানবদের’ পুরোপুরি নিঃশেষ করার ডাক দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “শুধু মুক্তি নয়, চাই রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের সম্পূর্ণ অবসান। তাহলেই বাংলাদেশ মুক্ত হবে শোষণ ও দুঃশাসন থেকে।”
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আয়োজিত এক সমাবেশে (শুক্রবার) চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ করে ফখরুল বলেন, “আজকের সংগ্রাম নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের যুদ্ধ। এই লড়াই থেকে পিছু হটলে দেশকে আবার হত্যা, দমন আর লুটের চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে বলেন, “যারা লুটপাটে অভ্যস্ত, যারা ব্যাংক খালি করেছে, যারা মানুষের জমি-সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে, তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিরোধই পারে এই দানবদের রুখে দিতে।”
তিনি অভিযোগ করেন, যারা একসময় খেয়ে-পরে চলতে পারতো না, তারাই আজ হাজার কোটি টাকার মালিক—এই বাস্তবতা প্রমাণ করে দেশে লুটেরাদেরই রাজত্ব চলছে।
বর্তমান রাজনৈতিক সংকটে নির্বাচনই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, “আমরা একটি নির্বাচিত পার্লামেন্ট চাই। আজ দেশে কোনো এমপি নেই, জনগণের সমস্যা কে তুলবে সংসদে?”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “নতুন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছেন। আমরা চাই, এই প্রক্রিয়া জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী এগিয়ে যাক।”
সমাবেশে বক্তৃতার একপর্যায়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “যেমনটি জনগণ খালেদা জিয়াকে বিশ্বাস করেছিল, তেমনই এখন তারেক রহমানের ওপর আস্থা রাখছে। এখন অপেক্ষা কেবল তার দেশের মাটিতে ফেরার।”
তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশে থাকবে ফার্মাস কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড—গরিবের জন্য সহায়তার বাস্তব নীতিমালা। থাকবে ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।”
সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক। উপস্থিত ছিলেন মোর্শেদ হাসান খান, সাইফুল আলম নিরব, রাজীব আহসান, সুলতানা আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীরসহ মহানগরের নেতাকর্মীরা।


