এনসিপির পাঁচ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ

রাজনীতি
এনসিপির পাঁচ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ
নিউজ ডেস্ক
৬ আগস্ট ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর পাঁচজন কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত ও অনুমতি ছাড়াই ঐতিহাসিক ৫ আগস্টে কক্সবাজার সফর করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যাখ্যা চেয়েছে দলীয় কেন্দ্রীয় দপ্তর। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত চিঠিতে পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।

ব্যাখ্যা চাওয়া নেতারা হলেন—দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “আপনারা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবস, ৫ আগস্টে, যেটি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়, তখন কক্সবাজারে ব্যক্তিগত সফরে ছিলেন। রাজনৈতিক পর্ষদকে না জানিয়ে এমন সফর নেতৃত্বের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ এবং দলে শৃঙ্খলাভঙ্গের শামিল।”

ওই পাঁচ নেতা ৫ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইটে কক্সবাজারে অবতরণ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক সূত্র। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন শুরু হয়—এনসিপি নেতারা নাকি কক্সবাজারে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হন। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কক্সবাজারের একটি হোটেলের সামনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভও করেছেন। তবে এনসিপি নেতারা দাবি করেন, এটি ছিল নিছক ‘ব্যক্তিগত ভ্রমণ’।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এই সফরকে ‘অবিবেচনাপ্রসূত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হিসেবে দেখছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে এর সুষ্ঠু ব্যাখ্যা চেয়েছেন। একাধিক দায়িত্বশীল নেতা মনে করছেন, বিশেষ করে এমন একটি সময়ে, যখন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি পালিত হচ্ছে—তখন শীর্ষ নেতাদের ভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া দলের ঐক্য ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর।

এই চিঠির মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর স্পষ্ট করে দিয়েছে, নেতৃত্বের অগোচরে কোনো রাজনৈতিক বা ‘ব্যক্তিগত’ কর্মসূচিকে ভবিষ্যতে বরদাশত করা হবে না।