বাংলাদেশে হিন্দুরাই হিন্দুদের শত্রু: গয়েশ্বর
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সাম্প্রতিক বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক মোড় ঘোরাতে আওয়ামী লীগ ও ভারতের জন্য একটি দাঙ্গা প্রয়োজন।” পাশাপাশি তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুরাই হিন্দুদের শত্রু” — যা হিন্দু সম্প্রদায়ের একাংশকে ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আয়োজিত ‘সনাতনী সমাবেশে’ এসব মন্তব্য করেন।
গয়েশ্বরের বক্তব্য: মূল পয়েন্টগুলো
-
দাঙ্গা ও রাজনৈতিক মোড়: গয়েশ্বর বলেন, “আওয়ামী লীগের জন্য, ভারতের জন্য বাংলাদেশে একটা দাঙ্গা প্রয়োজন। তাহলে রাজনৈতিক মোড়টা ঘোরাতে পারে। নির্বাচন বানচাল হতে পারে।”
-
হিন্দুদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা তুলে ধরা: “বাংলাদেশে মুসলমান নয়, হিন্দুরাই হিন্দুদের শত্রু। এক ভাই ভারতে চলে যায়, আরেক ভাই সম্পত্তি লিখে দেয়।”
-
ইতিহাস তুলে ধরেন: তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের সময় বিহারি-বাঙালি দাঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিকে রাজনৈতিক ‘কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের অনেকে গয়েশ্বরের বক্তব্যকে ‘উস্কানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহমুদ হাসান বলেন, “এ ধরনের বক্তব্য গণতান্ত্রিক আলোচনার ক্ষেত্র সংকুচিত করে। বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার এমন মন্তব্য জনগণের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়াতে পারে।”
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে কাজ করা একাধিক সংগঠন এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই বক্তব্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও আস্থার পরিপন্থী এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মীয় ইস্যুকে ব্যবহারের অপপ্রয়াস।”
গয়েশ্বরের বক্তব্যকে বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান বা ব্যাখ্যা করেনি। তবে দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ব্যক্তিগতভাবে বলেছেন, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট বোঝা জরুরি।
দলীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রায়ই খুব খোলামেলা ও উগ্রভাবে বক্তব্য দেন। কিন্তু তিনি দাঙ্গা ‘করার আহ্বান’ জানাননি, বরং শঙ্কা বা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সেটা বোঝা দরকার।”
প্রেস ক্লাবের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস। এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, মাহাদী আমিন, শামা ওবায়েদ, মীর সরফত আলী সপু, রফিকুল ইসলাম, কাদের গণি চৌধুরী এবং হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক হিন্দু নেতাও গয়েশ্বরের বক্তব্যে অস্বস্তি প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা বলেন, “আমরা সম্প্রীতি চাই, দোষারোপ নয়। কারো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা পুরো সম্প্রদায়ের মানসিকতা হতে পারে না।”


