কেন লন্ডনে আশ্রয় পেলেন না শেখ হাসিনা?

রাজনীতি
কেন  লন্ডনে আশ্রয় পেলেন না শেখ হাসিনা?
নিউজ ডেস্ক
৮ আগস্ট ২০২৫

গণঅভ্যুত্থানের পর পদচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয় না পাওয়া নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। যদিও সরকারিভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, ব্রিটেনসহ একাধিক দেশ রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।

৫ আগস্ট গণআন্দোলনের প্রেক্ষিতে পদত্যাগের পর শেখ হাসিনা ভারতে প্রবেশ করেন। সেসময় তার লন্ডন গমন ও রাজনৈতিক আশ্রয়ের বিষয়ে আলোচনার কথা শোনা গেলেও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

ব্রিটেনের অভিবাসন নীতিমতে, কোনো ব্যক্তি তৃতীয় দেশে অবস্থানরত অবস্থায় যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করতে পারেন না। এ বিষয়ে ব্রিটিশ ইমিগ্রেশন আইন বেশ স্পষ্ট। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, “একটি দেশের ভিসা না থাকলে এবং সরাসরি সে দেশে প্রবেশ না করলে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন প্রক্রিয়াগতভাবেই অসম্ভব।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এদিকে লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, “আমার জানা মতে, শেখ হাসিনা অফিসিয়ালি রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেননি।” তিনি আরও বলেন, “হয়তো ব্যক্তিগত চ্যানেলে যোগাযোগ হয়েছিল, তবে তা কূটনৈতিকভাবে প্রমাণিত নয়।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, দমনপীড়ন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী দেশগুলো তার আশ্রয়প্রাপ্তিতে সংযত ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সায়মা আহমেদ বলেন, “ব্রিটেনসহ পশ্চিমা দেশগুলো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের পক্ষে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যেসব গুরুতর অভিযোগ ছিল, তা বিবেচনায় নেওয়া অস্বাভাবিক নয়।”

ব্রিটেন, সুইডেন কিংবা নরওয়ের মতো দেশ আশ্রয় না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ভারত তাকে ‘বিশেষ অতিথি’ হিসেবে আশ্রয় দেয়। তবে ভারতীয় সংসদেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। এমপি আসাদ উদ্দিন ওয়াইসি পার্লামেন্টে প্রশ্ন তোলেন— “একটি দেশ হিসেবে ভারতের সম্পর্ক বাংলাদেশের রাষ্ট্রের সঙ্গে, কোনো রাজনৈতিক দলের বা পরিবারের সঙ্গে নয়।”

সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই সিদ্ধান্ত তার কৌশলগত স্বার্থ ও আঞ্চলিক রাজনীতির একটি বহিঃপ্রকাশ।

ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে স্পষ্ট সময়সীমা না দিয়ে যতদিন ইচ্ছা থাকার অনুমতি দিয়েছে। তবে তিনি এখনো জনসমক্ষে কোনো বক্তব্য দেননি। তার দল আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।