জুলাই সনদ অসম্পূর্ণ ও একপক্ষীয়: জামায়াত নেতার মন্তব্য
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, “জুলাই সনদ একটি অসম্পূর্ণ ও পক্ষপাতদুষ্ট দলিল। এতে ১৯৫২’র ভাষা আন্দোলন ও ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস উপেক্ষা করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “সাধারণ জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন এই ঘোষণায় নেই। এটি একটি দলের একক সিদ্ধান্ত। অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তি এটিকে স্বাগত জানায়নি।”
বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ লয়ার্স কাউন্সিল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “শুধু রাষ্ট্র নয়, নির্বাচন প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোরও সংস্কার প্রয়োজন। গণহত্যার বিচার এবং নির্বাচনী কাঠামোর পুনর্গঠন ছাড়া জামায়াত কোনো নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না।”
তিনি আরও বলেন, “পিআর পদ্ধতি ছাড়া জনগণ নির্বাচন মানবে না। নির্বাচন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি এক ধরনের গণআন্দোলনের প্রতিফলন। ফ্যাসিবাদী শাসকদের বিচারের মাধ্যমেই নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব।”
আলোচনায় জামায়াতের অপর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, “সারাদেশে বর্তমানে প্রায় দেড় লাখ আইনজীবী এবং ৪৬ লাখ মামলার জট। ফ্যাসিস্ট সরকার বিরোধীদের দমন করতে মামলা ঝুলিয়ে রেখেছিল।”
তিনি বলেন, “জুলাই সনদ দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের ফসল হলেও এর আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের সততা ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।”
সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। বক্তারা ২০০৭ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে দোয়া পরিচালনা করেন।
সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ লয়ার্স কাউন্সিল চট্টগ্রাম সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মালিক এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শামসুল আলম।
জুলাই সনদকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জামায়াত একে ‘অসম্পূর্ণ’ বললেও, অন্য পক্ষগুলো একে একটি রাজনৈতিক রূপরেখা হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে জামায়াতের বক্তব্য স্পষ্ট—“সংস্কার ও বিচার ছাড়া নির্বাচনে নয়।” এই অবস্থান সামনে রেখে ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তারা কী ভূমিকা রাখে, তা এখন দেখার বিষয়।


