বিতর্কিত বক্তব্যে হাটহাজারী জামায়াত আমির সিরাজুল ইসলামকে পদচ্যুত, সংগঠনের দুঃখ প্রকাশ

রাজনীতি
বিতর্কিত বক্তব্যে হাটহাজারী জামায়াত আমির সিরাজুল ইসলামকে পদচ্যুত, সংগঠনের দুঃখ প্রকাশ
নিউজ ডেস্ক
৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত মন্তব্য করায় হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতের আমির মো. সিরাজুল ইসলামকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখা।

রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) জামায়াতের উত্তর জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল করিম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, “তার (সিরাজুল ইসলাম) বক্তব্য সংগঠনের ভাবমূর্তির পরিপন্থী, যা দল সমর্থন করে না।”

গত বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে জোবরা গ্রামে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা জমিদার, আমাদের সম্মান না করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।”

এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা প্রচণ্ড সমালোচনার জন্ম দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ এই মন্তব্যকে “উস্কানিমূলক” ও “অসাংবিধানিক” বলে আখ্যা দেন।

বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও মো. সিরাজুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে। তিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার পদে কর্মরত আছেন।

এরই মধ্যে চট্টগ্রাম-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবেও তার নাম ঘোষিত হয়েছিল। দলীয় পর্যায় থেকে পদচ্যুতি তার প্রার্থিতা ও রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

জামায়াতের উত্তর জেলা নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি মো. সিরাজুল ইসলামের ব্যক্তিগত বক্তব্য। এ ধরনের উক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারসহ সমাজে অস্বস্তি তৈরি করেছে এবং সংগঠনের আদর্শ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থানকে ক্ষুণ্ন করেছে। তাই তাকে হাটহাজারী উপজেলা আমিরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জোবরা গ্রাম একে অপরের পরিপূরক। আমরা অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সৌহার্দ্য ও সহাবস্থান কামনা করি।”

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পাশের জোবরা গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়, যাতে কয়েকজন আহত ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। সিরাজুল ইসলামের মন্তব্য সেই উত্তেজনাকেই আরও উসকে দেয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।