মানবিকতা ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের

রাজনীতি
মানবিকতা ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান তারেক রহমানের
নিউজ ডেস্ক
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

দেশে দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রের অনুপস্থিতি মানুষকে ধীরে ধীরে অসহিষ্ণু করে তুলেছে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একইসঙ্গে তিনি মানবিক সমাজ গঠনে পশু-পাখির নিরাপত্তা ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘প্রাণী ও প্রাণের মিলনমেলা’ শীর্ষক এক প্রদর্শনীতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।

তারেক রহমান বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“দেড় দশকের বেশি সময় ধরে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়ে যাওয়ার ফলে যে অসহিষ্ণুতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে হলে মানবিকতা ও মনুষ্যত্বকেই সামনে আনতে হবে। পশুত্ব বর্জনই হতে হবে আমাদের অঙ্গীকার।”

তিনি বলেন, মানুষ যত বেশি প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হবে, তাদের নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করবে—ততটাই একটি সমাজ নৈতিকভাবে উন্নত ও সভ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

তারেক রহমান বলেন,

“গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের সম্পর্ক যেমন নিবিড়, তেমনি বাস্তুতন্ত্র ও বন্যপ্রাণীর মধ্যেও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রে যদি সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত থাকে, তবে প্রকৃতি ও প্রাণিকুলও সুরক্ষিত থাকে।”

তিনি আরও বলেন, শহরাঞ্চলে এডিস মশার বিস্তার ঠেকাতে প্রাকৃতিক উপায়ে ব্যাঙের নিরাপদ আবাস গড়ে তোলার কথা ভাবতে হবে।

“ব্যাঙ এডিস মশার লার্ভা খেয়ে প্রকৃতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই প্রকৃতি ও প্রাণীর ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।”

তারেক রহমান বলেন,

“বাংলাদেশে প্রাণী ও পরিবেশ রক্ষায় অনেক আইন থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রয়োগ অকার্যকর। বিএনপি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেলে, ইনশাআল্লাহ, এসব আইন যুগোপযোগী করা হবে।”

তিনি প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনসহ একাধিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এসব আইনকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সংস্কার ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার জরিপ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন,

“দেশে একসময় ১,৬০০’র বেশি প্রাণী প্রজাতি থাকলেও বর্তমানে প্রায় ৩০০ প্রজাতি বিলুপ্তির মুখে। সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ৪০০ থেকে নেমে এসেছে প্রায় ১০০-এ, আর হাতির সংখ্যা ২০০-এর নিচে।”

এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং বৈশ্বিক সংকট বলেও উল্লেখ করেন তিনি।