জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধের দাবি জামায়াতের

রাজনীতি
জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধের দাবি জামায়াতের
নিউজ ডেস্ক
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে ‘স্বৈরাচারী সরকারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি দাবি করেছে, এসব দল বর্তমান সরকারের দমন-পীড়ন ও দুর্নীতিকে সহায়তা করছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, “দেশ আজ এক দুঃসময় পার করছে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে সরকার জোর করে ক্ষমতায় রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমরা ৫ দফা গণদাবি ঘোষণা করছি।”

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

জামায়াতের ঘোষিত ৫ দফা দাবি:

১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

২. সংসদের উভয় কক্ষে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতি চালু করতে হবে।

৩. সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ গড়ে তুলতে হবে।

  1. ফ্যাসিবাদী সরকারের অধীনে চালানো জুলুম, হত্যা ও দুর্নীতির বিচার করতে হবে।

  2. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে, কারণ তারা সরকারকে সহায়তা করে স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রেখেছে।

ডা. তাহের আরও বলেন, “যারা জনগণের অধিকার হরণে সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে, তাদের রাজনীতি করার অধিকার নেই।”

জামায়াতের এই দাবি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনীতিকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই এটিকে জামায়াতের নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত নিজেই বিগত এক দশকে রাজনীতিতে অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলটি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন ইস্যুতে মুখ খুলছে এবং সক্রিয় হতে চাচ্ছে। এই দাবিগুলো সেই প্রচেষ্টারই অংশ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, “জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সব দল নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছে। জামায়াতের এই পাঁচ দফা দাবি মূলত নির্বাচনকেন্দ্রিক মেরুকরণেরই প্রতিফলন।”

জামায়াত তাদের ঘোষণায় ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারকে সময় বেঁধে দিলেও, নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট।