ফখরুল-আব্বাসসহ ৬৭ নেতা বিস্ফোরক মামলায় অব্যাহতি পেলেন
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: সংগৃহীত
২০২৩ সালের বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের ৬৭ নেতাকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে এ আদেশ দেন। বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল।
মামলায় উল্লেখযোগ্য আরও যেসব নেতার নাম ছিল:
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী,এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী,ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর,জয়নুল আবেদীন ফারুক,রুহুল কবির রিজভী,ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন,হাবিব-উন-নবী খান সোহেল,রফিকুল ইসলাম বকুল,নিপুণ রায় চৌধুরী প্রমুখ।
সেদিন বিএনপি ঢাকায় মহাসমাবেশ আহ্বান করে, একই দিনে পাল্টা কর্মসূচি নেয় আওয়ামী লীগ। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে পল্টন, বিজয়নগর ও নাইটিঙ্গেল মোড় এলাকায়।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের বহু মানুষ আহত হন, ভাঙচুর হয় সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে।
ঘটনার তিন দিন পর ৩১ অক্টোবর পল্টন থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য ও দণ্ডবিধি আইনে মামলাটি দায়ের করেন রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক আব্দুল আউয়াল।
তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে বলা হয়—
“বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ব্যবহারের কোনো সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
এই প্রতিবেদনকে ভিত্তি করেই আদালত ৬৭ আসামিকে অব্যাহতির আদেশ দেন।
বিএনপি বলছে,
“এই অব্যাহতি প্রমাণ করে সরকার প্রতিহিংসাবশত মামলা দিয়ে আমাদের নেতাদের হয়রানি করেছে।”
তবে সরকারপক্ষ বলছে,
“আইন তার নিজস্ব গতিতে চলেছে। আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই।”


