বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই যোদ্ধাদের দেখাশোনার জন্য বিশেষ বিভাগ খুলবে: তারেক রহমান

রাজনীতি
বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই যোদ্ধাদের দেখাশোনার জন্য বিশেষ বিভাগ খুলবে: তারেক রহমান
নিউজ ডেস্ক
১৮ জানুয়ারি ২০২৬

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে, যার মূল দায়িত্ব থাকবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের দেখভাল করা—এমন ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রহমান বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতেও শোক আর শোকগাথাই আমাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকবে। তাই শোক সমাবেশের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে গণতন্ত্রের বিজয়গাথা রচনার সময় এসেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা আহত হয়েছেন, তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। যেমন ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, তেমনি ২০২৪ সালে জুলাই যোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি বিশেষ বিভাগ গঠন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিভাগের মাধ্যমে জুলাই শহীদদের পরিবার এবং আহত যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তা করা হবে। হারানো প্রিয়জনকে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এই ঘটনাকে তিনি সরাসরি গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো দলীয় কর্মসূচি ছিল না; এটি ছিল দল-মত ও ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন, যার মূল লক্ষ্য ছিল জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শহীদ ও আহতদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।