‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বাংলাদেশ জিতে যাবে ও ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিবাজদের কবর হবে: শফিকুর রহমান

রাজনীতি
‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে বাংলাদেশ জিতে যাবে ও ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিবাজদের কবর হবে: শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, হ্যাঁ জিতে গেলে বাংলাদেশ জিতে যাবে। হ্যাঁ জিতে গেলে বাংলাদেশে আর ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। হ্যাঁ জিতে গেলে দূর্নীতিবাজদের কবর রচনা হবে। আর হ্যাঁ হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে ও ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে। তাই ফ্যাসিবাদ যাতে আর না ফিরে আসে সেজন্যই হ্যাঁ ভোটকে জয়জুক্ত করতে হাতে ভোট দিতে হবে।

তিনি জনতার উদ্দেশ্য বলেন, হ্যাঁ ভোট মানে আজাদী না ভোট মানে গোলামী?

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকালে চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমীর রুকহুল আমিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি একথা বলেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়ত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের প্রার্থী এ্যাডভোকেট রাসেল আহম্মেদ ও ২ আসনের রুহুল আমিনের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গার অনিয়ম দূর্নীতি বিষয়ে বলেন, দখলবাজ,চান্দাঁবাজ, মামলাবাজ ও টেন্ডার বাজরা এই চুয়াডাঙ্গা গিলে খাক আপনারা যদি না চান তাহলে আপনাদেরকে বুঝতে হবে, ২০২৪ এর ৫ আগষ্ট যে বিপ্লব হয়েছিল আবার ২৬ এর ১২ ফেব্রুয়ারী একই ধরনের আরেকটি বিপ্লব ঘটাতে হবে। সেই ২৪ এর বিপ্লব ছিল দূর্নীতিবাজ লুটেরা ও ফেসিবাদের বিরুদ্ধে। আর এবারকার ২৬ এর ১২ ফেব্রুয়ারীর বিপ্লব হবে ব্যালটের মাধ্যমে। দূর্ণীতিমক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য। আদিপত্তবাদের কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার জন্য। চাঁদাবাজি আর হয়রানিমূলক রাজনৈতিক পুরাতন বস্তাপচা ব্যবস্থাকে নশসাৎ করার জন্য। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য দূর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ,দখলবাজ ও আমার মায়ের ইজ্জ নিয়ে ছিনিমিনি করবা এবং শিশু আবাল বৃদ্ধকে যে সম্মান করে না তোমাকেও লাল কার্ড। মনে রাখবা আনাদের জীবনের চাইতে আমাদের মায়েদের ইজ্জতের দাম অনেক বেশী।সুতরাং বেয়াদবী করলে আগুনের ফুলকপি দেখতে পাবা। কাউকে আমরা ছেড়ে কথা বলবো না। যুক্তি ও কর্মসূচি নিয়ে নির্বাচনী মাঠে তুমি তোমার মত করে খেল। কিন্তু যদি ফ্যাসিবাদী চেহারা নিয়ে কেউ আমাদের সামনে আসে ২৪ এর ফ্যাসিবাদীকে যেমন এদেশের সম্মিলিত জনগণ বিশেষ করে যুবসমাজ যে লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী সে লাল কার্ড দেখিয়ে দেওয়া হবে। কে কি বললো তার জবাব দেওয়ার সময় আমাদের নাই। আমরা এই দেশবাসীকে নিয়ে কি স্বপ্ন দেখছি তাই বলতে এসেছি। শুধু চুয়াডাঙ্গা নয় এরা সারা বাংলাদেশের জনগণের সম্পদ চুরি করেছে লুটপাট করেছে। বিদেশে পাচার করেছে। বেগম পাড়া করেছে। নিজেদের জন্য জন্য কানাডা সিঙ্গাপুর বানিয়েছে আর বাংলাদেশকে সমুদ্রে তলিয়ে দিয়েছে।আনরা বাংলাদের মালিল হতে চাইনা আমরা জনগণের সেবক হতে চাই। আমরা কথা দিচ্ছি আমাদের কোনো প্রতিনিধির সম্পদ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে না। যারা নিঃস্বার্থভাবে জনগণের সপবা করার জন্য আসবা তারা এসো। না পারলে এসো না। প্রতি বছর তোমার ও তোমার পরিবারের সম্পদের হিসাব দেশের জনগণকে দিতে হবে।বেকার যুবকদের উদ্দেশ্য বলেন তোমাদের হাতে আমরা বেকার ভাতা তুলে দিতে চাইনা। তোমাের হাত কর্মের হাত তৈরি করে তোমাদের হাতে সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। তিনি সবশেষে বলেন আপনারা যদি চুয়াডাঙ্গার দুটি আসন আমাদের উপহার দেন তাহলে আপনাদের ঋণ পরিশোধ করবো ইনশাআল্লাহ।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য রাখেন

জনসভা শেষে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান চুয়াডাঙ্গা দুইটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দলীয় নির্বাচনি প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। একই সঙ্গে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা ১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এ্যাডভোকেট রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা জীবননগর – ২ আসনের প্রার্থী রুহুল আমিনের পক্ষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান। চুয়াডাঙ্গার জনসভা শেষেমপরবর্তী কর্মসূচী অনুয়ায়ী তিনি ঝিনাইদহ যশোর ও সাতক্ষীরার জনসভার উদ্দেশ্য রওয়ানা হন।