শেরপুরের ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বিএনপির
শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার সময় উদ্ভূত সহিংসতা এবং একজন নিহত হওয়ার ঘটনাকে “অনাকাঙ্ক্ষিত” বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলীয় চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, “এই সংঘাত এড়ানো যেত কি না—এ প্রশ্ন স্বাভাবিক। কেন নির্ধারিত সময়ের আগেই কিছু আসন দখল করা হলো, কেন লাঠিসোঁটা রাখা হলো, কেন প্রশাসনের অনুরোধ উপেক্ষা করে সংঘাতের পথ বেছে নেওয়া হলো—সব প্রশ্নের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।”
তিনি আরও জানান, শেরপুরে প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে একটি শান্তিপূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। প্রতিটি দলের জন্য নির্ধারিত আসন থাকলেও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ তা দখল রাখায় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের আসনে বসতে পারেননি। এ ঘটনার ফলে ৪০-এর বেশি নেতাকর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ও আহত সকলেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ চেয়েছিলেন।
মাহদী আমিন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সব রাজনৈতিক দলও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করবে।”
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন, যেখানে দেখা যায়, পুলিশ, প্রশাসন, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও হাত জোড় করে সহিংসতা রোধের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু জামায়াতের প্রার্থী সেই পথই বেছে নেন, যার ফলে সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
মাহদী আমিন আরও বলেন, “দেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অগ্রাধিকার হলো শান্তিপূর্ণ, বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে দেশের গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করতে পারব।”


