রোগব্যাধি থেকে মুক্তি লাভের দোয়া
দেশে ও বিশ্বের আলোচিত প্রতিদিনের সংবাদে মাঝে মাঝে আমরা স্বাস্থ্য বিষয়ক গুরুত্ব অনেক সময় হালকা করে দেই। অথচ সুস্থতা মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নেয়ামত। সুস্থ না থাকলে কোনো ভালো কাজ করা বা উন্নতির পথে চলা সম্ভব হয় না। এ নিয়েই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকতেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)। তিনি সর্বদা আল্লাহর কাছে সুস্থতা, নিরাপত্তা ও ক্ষমার জন্য দোয়া করতেন এবং সাহাবাদেরও উৎসাহিত করতেন।
নবীজির (সা.) সুস্থতার তিনটি বিশেষ দোয়া
ইসলামের ইতিহাসে বর্ণিত রয়েছে, নবী (সা.) বিভিন্ন সময়ে দুরারোগ্য ব্যধি থেকে রক্ষা, সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন। নিচে উল্লেখ করা হলো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়ার কথা:
১. দুরারোগ্য ব্যধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبَرَصِ وَالْجُنُونِ وَالْجُذَامِ وَمِنْ سَيِّئِ الأَسْقَامِ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি শ্বেত, পাগলামি, কুষ্ঠ ও ঘৃণ্য রোগ থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, সুনানে নাসায়ি)
২. সুস্বাস্থ্য, সচ্চরিত্র ও তকদিরের প্রতি সন্তুষ্টির জন্য দোয়া:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصِّحَّةَ وَالْعِفَّةَ وَالأَمَانَةَ وَحُسْنَ الْخُلُقِ وَالرِّضَا بِالْقَدَرِ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সুস্বাস্থ্য, সচ্চরিত্র, আমানতদারি, উত্তম স্বভাব ও تقدیرে সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি।
(সূত্র: আল আদাবুল মুফরাদ, বুখারী)
৩. সকাল ও সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য দোয়া:
بِسْمِ اللهِ الذِي لَايَضُرُّ مَعَ اِسْمِه شَيْئ في الأَرْضِ ولا في السَّمَاء وَهُوَ السمِيعُ العَلِيم
অর্থ: ওই আল্লাহর নামে যার নামের সাথে আসমান-জমিনের কোনো কিছু কোনো ধরণের ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
(সূত্র: সুনানে তিরমিজি, আবু দাউদ)
নবীজির নির্দেশনা: সুস্থতার জন্য নিয়মিত দোয়া করুন
রাসুল (সা.) বলেছেন, “আপনারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা, নিরাপত্তা ও সুস্থতা প্রার্থনা করুন, ঈমানের পর নিরাপত্তা ও সুস্থতাই সবচেয়ে বড় নেয়ামত।” (সুনানে তিরমিজি, সুনানে নাসায়ি)।
এছাড়া ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক বেদুইনের প্রশ্নের উত্তরে নবীজির সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত দোয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
সুস্থতা ছাড়া জীবন ও কাজের সফলতা অসম্ভব। তাই প্রতিদিনের জীবনে এই মহামূল্যবান নেয়ামতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। নবীজির (সা.) দোয়া ও আদেশ অনুসরণ করে সুস্থতা লাভের জন্য চিরকাল চেষ্টা করতে হবে।


