ঈদুল আজহা: আত্মোৎসর্গের এক অনন্য নিদর্শন
ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মত্যাগ, তাওহিদ ও তাকওয়ার এক মহা-বার্তা। এই দিনের মূল উৎস হলো হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সেই ঐতিহাসিক কুরবানি, যেখানে তিনি আল্লাহর আদেশে পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে জবাই করতে উদ্যত হয়েছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো একটি পশু কুরবানির মাধ্যমে তিনি এই মহান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রমাণ করেন, তিনি রক্তপিপাসু নন; বরং তাকওয়া ও আত্মসমর্পণই তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য।
ইসলামে কুরবানির উদ্দেশ্য কেবল পশু জবাই নয়, বরং নিজের মধ্যকার পশুত্ব, লোভ ও অহংকারকে বলি দেওয়া। আল্লাহ বলেন, “তাদের মাংস ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া” (সূরা হাজ্জ: ৩৭)।
আধুনিক সময়ে কেউ কেউ কুরবানিকে অপচয় ও নিষ্ঠুরতা বলে অভিহিত করলেও প্রকৃতপক্ষে এটি প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি অলৌকিক প্রক্রিয়া, যার মধ্যে রয়েছে মানবতার কল্যাণ ও ত্যাগের শিক্ষা।
আমরা যেন কুরবানিকে লোক দেখানো প্রতিযোগিতা না বানিয়ে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করি এবং হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর মতো খাঁটি নিয়ত ও আত্মত্যাগের চেতনায় উজ্জীবিত হই। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তাকওয়ার আলোয় আলোকিত করুন এবং আমাদের কুরবানি কবুল করুন। আমিন।


