নবিজি (সা.)-কে হত্যাচেষ্টা: খায়বার বিজয়ের পরও ইহুদি নারীকে ক্ষমা করেছিলেন মহানবী (সা.)
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবনে মানবতা, উদারতা ও প্রতিশোধহীনতা ছিল অনন্য এক দৃষ্টান্ত। মদিনায় হিজরতের পর তিনি মক্কার মুশরিকদের মোকাবেলায় মদিনার ইহুদি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে মদিনা সনদ নামে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি করেন। উদ্দেশ্য ছিল—সহাবস্থান, শান্তি ও পারস্পরিক সহযোগিতা।
তবে ইতিহাস বলছে, সেই চুক্তি ইহুদি গোত্রগুলোর মধ্যে অনেকেই ভঙ্গ করে। তারা গোপনে মক্কার কোরাইশদের সঙ্গে মিলে চক্রান্ত করে, এমনকি নবিজি (সা.)-কে হত্যারও চেষ্টা চালায়।
খায়বারের যুদ্ধের পর ইহুদি নারীর চক্রান্ত
হিজরি সপ্তম বর্ষে মুসলমানরা খায়বার বিজয় করে। এই যুদ্ধেই ইহুদি পক্ষ চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয়। কিন্তু পরাজয়ের পরও এক ইহুদি নারী নবিজিকে (সা.) হত্যার উদ্দেশ্যে বিষ মিশিয়ে ছাগলের মাংস পরিবেশন করেন। যদিও তিনি কয়েক লোকমা খাওয়ার পরই বিষের উপস্থিতি বুঝতে পারেন।
প্রখ্যাত হাদিস গ্রন্থ সহিহ মুসলিম (৫৫১৭)-এ বর্ণিত, সেই নারী পরে স্বীকার করে বলেন, “আমি আপনাকে (নবিজি সা.) হত্যা করতে চেয়েছিলাম।”
জবাবে নবিজি (সা.) বলেন, “আল্লাহ তোমাকে সে ক্ষমতা দেননি।”
সাহাবিরা শাস্তি দিতে চাইলেও নবিজি (সা.) বিরত রাখেন
ঘটনার পর উপস্থিত সাহাবিরা ওই নারীকে হত্যার প্রস্তাব দিলে নবিজি (সা.) স্পষ্টভাবে বলেন, “না”। তিনি ক্ষমা করে দেন। পরবর্তীতে ঐ নারী ইসলাম গ্রহণ করেন, এবং নবিজি (সা.) তাকে কোনো শাস্তি দেননি।
এই ঘটনার বর্ণনায় হাদিসবিদ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ আল-ইসাবা-তে উল্লেখ করেছেন, ওই নারীর নাম ছিল জয়নব বিনতে হারিস। ইসলাম গ্রহণের পর নবিজি (সা.) তাকে মুক্ত করে দেন।
বিষের যন্ত্রণা রয়ে যায় মৃত্যু পর্যন্ত
যদিও নবিজি (সা.) তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণ হারাননি, কিন্তু হাদিস অনুযায়ী তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত ওই বিষের শারীরিক প্রভাব অনুভব করতেন। সহিহ বুখারি (হাদিস ৪৪২৮)-তে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন:
“রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রাসুল (সা.) বলেন, ‘খায়বারে আমি যে বিষাক্ত মাংস খেয়েছিলাম, আমি এখনো তার যন্ত্রণা অনুভব করছি।’”
অনেক ইসলামি গবেষক ও সিরাতকার ইবনে ইসহাক (রহ.)-এর মতে, নবিজি (সা.)-এর শাহাদতের পেছনে এই বিষের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবই একটি বড় কারণ ছিল।


