হাঁচি, সালাম ও দানশীলতা: হাদিসে ফুটে ওঠা আদম (আ.)-এর মানবিক শুরু
ইসলামের প্রাথমিক ইতিহাসে হজরত আদম (আ.)-এর সৃষ্টি এবং তাঁর জীবন থেকে পাওয়া যায় অসংখ্য মূল্যবান শিক্ষা। সহিহ হাদিসে বর্ণিত একটি ঘটনা তাঁর সৃষ্টি, আল্লাহর প্রশংসা, সালাম প্রবর্তন এবং দানশীলতার মর্মবাণী তুলে ধরে।
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা আদম (আ.)-এর দেহে আত্মা ফুঁকলে তিনি প্রথম হাঁচি দেন এবং তখনই তাঁর মুখ থেকে বের হয়ে আসে ‘আলহামদুলিল্লাহ’। তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, “ইয়ারহামুকাল্লাহ”—‘আল্লাহ তোমার প্রতি দয়া করুন’। হাদিস বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ঘটনা আল্লাহর সঙ্গে মানবের প্রথম সম্পর্কের এক সৌন্দর্যময় উদাহরণ।
আল্লাহ আদম (আ.)-কে নির্দেশ দেন ফেরেশতাদের কাছে গিয়ে তাদের সালাম জানাতে। তিনি বললেন, “আসসালামু আলাইকুম”। জবাবে ফেরেশতারা বলেন, “ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ”। আল্লাহ বলেন, এ অভিবাদনই হবে তোমার ও তোমার বংশধরদের পারস্পরিক অভিবাদন।
আল্লাহ আদম (আ.)-কে তাঁর দুই মুষ্টির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলেন। তিনি আল্লাহর ডান হাত বেছে নেন—যা সবটাই বরকতময়। সেখানে আদম (আ.) তাঁর বংশধরদের দেখতে পান। উজ্জ্বল চেহারার একজনকে দেখে জিজ্ঞেস করেন—“হে আমার রব! এ কে?”
আল্লাহ বলেন, “সে তোমার সন্তান দাউদ (আ.), যার আয়ু আমি ৪০ বছর নির্ধারণ করেছি।”
আদম (আ.) অনুরোধ করেন, “আমার আয়ু থেকে ৬০ বছর তাকে দিয়ে দিন।”
আল্লাহ বলেন, “তুমি চাইলে সেটা তার প্রতি তোমার অনুগ্রহ হবে।”
যখন মৃত্যুর ফেরেশতা আদম (আ.)-এর কাছে আসেন, তিনি বলেন, “আমার আয়ু তো এখনও শেষ হয়নি!”
ফেরেশতা বলেন, “আপনি দাউদকে ৬০ বছর দান করেছিলেন।”
কিন্তু আদম (আ.) তা ভুলে যান এবং অস্বীকার করেন।
হাদিসে বর্ণিত আছে—“তাই তাঁর সন্তানরাও ভুলে যায় ও অস্বীকার করে। সেখান থেকেই লিখিত চুক্তি ও সাক্ষীর প্রচলন শুরু হয়।”


