এইচএসসি শুরুর দিনেই স্বাস্থ্যবিধির ‘পড়াশোনা’ ভুলে গেল সবাই!
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে চরম স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের চিত্র সামনে এসেছে। করোনা ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষার্থী, অভিভাবক এবং কেন্দ্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সচেতনতার অভাব প্রকটভাবে ধরা পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ ও সিদ্ধেশ্বরী কলেজ কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে—
-
অধিকাংশ পরীক্ষার্থীই মাস্ক পরিধান না করেই কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন।
-
কেন্দ্রের ফটক ও অভ্যন্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরাও মাস্ক ছাড়া।
-
হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও অনেক জায়গায় ছিল না।
সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রে আসা অভিভাবকদেরও বড় অংশ মাস্ক ছাড়া অবস্থায় দেখা গেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে তাদের মধ্যে অনীহা ও অসচেতনতা লক্ষ করা গেছে।
একজন নিরাপত্তাকর্মী বলেন, “আমরা বারবার অনুরোধ করি মাস্ক পরতে, কিন্তু অনেকেই গুরুত্ব দেন না।”
ভ্যাপসা গরমে কেন্দ্রের সামনে অভিভাবকরা কষ্টে ছিলেন। কেউ বাসা থেকে হাতপাখা এনেছেন, কেউ লিফলেট দিয়ে বাতাস করছেন। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধির বিষয়গুলো একপ্রকার উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।
অভিভাবক অমিত বলেন, “এই গরমে বাচ্চারা কিভাবে পরীক্ষা দিচ্ছে ভাবতেই ভয় লাগছে। কিন্তু সত্যি বলতে কি, এত গরমে মাস্ক পরাও কষ্ট।”
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী—
-
মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক
-
হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে
-
মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে
-
অভিভাবকদের জটলা নিরুৎসাহিত করতে হবে
কিন্তু বাস্তবচিত্রে দেখা গেল এই নির্দেশনাগুলো মাঠে প্রায় অকার্যকর।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
-
ছাত্র: ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন
-
ছাত্রী: ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন
পরীক্ষা হচ্ছে ২,৭৯৭টি কেন্দ্রে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “শুধু পরীক্ষার্থী নয়, সংশ্লিষ্ট সকলের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রভিত্তিক কড়া নজরদারি ও প্রচার প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিধি মানা না গেলে বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।”


