কোরআনের আয়াত শুধুমাত্র সাজসজ্জায় ব্যবহার করা মাকরুহ: ইসলামি বিশ্লেষণ

ধর্ম
কোরআনের আয়াত শুধুমাত্র সাজসজ্জায় ব্যবহার করা মাকরুহ: ইসলামি বিশ্লেষণ
নিউজ ডেস্ক
২৬ জুন ২০২৫

সৌন্দর্য বা শোভা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কোরআনের আয়াত ব্যবহার ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে মাকরুহ, যা কোরআনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ইসলামি পণ্ডিতরা বলছেন, কোরআনের আয়াত নাজিল হয়েছে জীবন গঠনের পাথেয় হিসেবে—নির্দেশনা, চিন্তা ও আমলের জন্য, শুধুমাত্র দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্মে ব্যবহারের জন্য নয়।

এ প্রসঙ্গে ঢাকার একাধিক ইসলামি গবেষক ও আলেম বলেন, কোরআনের প্রতি শ্রদ্ধা ও মর্যাদা বজায় রাখার জন্য এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। বিশেষত দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা ক্যালিগ্রাফির দিকে পা তুলে বসা বা অযু ছাড়া স্পর্শ করাও ইসলামি আদব লঙ্ঘন।

সুরা সোয়াদ (আয়াত ২৯) ও সুরা মুহাম্মাদ (আয়াত ২৪) উল্লেখ করে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“আল্লাহ কোরআন নাজিল করেছেন যেন মানুষ তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে, শিক্ষা গ্রহণ করে এবং সঠিক পথের অনুসন্ধান করে।”

তাফসিরে কুরতুবি অনুযায়ী, খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহ.) নিজ সন্তানকে দেয়ালে কোরআনের আয়াত লিখতে দেখে নিষেধ করেছিলেন। তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সেই হাদিস স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে আল্লাহর কিতাবের অপব্যবহারকারীদের প্রতি লানতের কথা বলা হয়েছে।

আল্লামা ইবনে আবেদিন শামি (রহ.) তার বিখ্যাত গ্রন্থ ফাতাওয়া শামী-তে স্পষ্ট করেছেন, দিরহাম, আসবাবপত্র, দেয়াল বা মেহরাবে কোরআনের আয়াত লেখা মাকরুহ, যদি তা নিছক সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে হয়।

তবে আলেমগণ ব্যাখ্যা করেন, কোরআনের আয়াত যদি বরকতের উদ্দেশ্যে, শিক্ষা গ্রহণের অভিপ্রায়ে এবং যথাযথ আদব রক্ষা করে ব্যবহার করা হয়—যেমন মসজিদের দেয়ালে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বা ঘরে পবিত্র স্থানে—তাহলে তা জায়েজ হতে পারে।

তবে সেক্ষেত্রে স্পষ্ট নির্দেশনা হলো:

শেষে কোরআনের সুরা হজের একটি আয়াত উল্লেখ করে বলা হয়,

“যে কেউ আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করে, সেটাই তার হৃদয়ের তাকওয়ার প্রতিফলন।” (সুরা হজ: ৩২)