জালিম ফেরাউন ডুবে মরেছিল আশুরায়
ইসলামি ইতিহাসে পবিত্র আশুরার দিনটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এই দিনেই আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবি মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের ভয়াবহ জুলুম থেকে মুক্তি দেন। সেই দিন ফেরাউন ও তার বাহিনী লোহিত সাগরে ডুবে চিরতরে ধ্বংস হয়। কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, এ ঘটনাটি ঘটেছিল ১০ মহররম, যা মুসলমানদের কাছে ‘আশুরা’ নামে পরিচিত।
মিশরের শাসকগোষ্ঠী কিবতিদের রাজা ছিল ‘ফেরাউন’ উপাধিতে পরিচিত। মুসা (আ.)-এর যুগের ফেরাউন ছিল এক ভয়ঙ্কর দাম্ভিক শাসক, যে নিজেকে ‘প্রভু’ দাবি করত। তার জুলুমের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে, ভবিষ্যদ্বাণীর কারণে বনি ইসরাইলের সব ছেলে নবজাতককে হত্যা করার নির্দেশ দেয়।
আল্লাহর হুকুমে মা মুসাকে (আ.) শিশু অবস্থায় নদীতে ভাসিয়ে দেন, যেখান থেকে ফেরাউনের রাজপ্রাসাদেই তিনি আশ্রয় পান। পরে নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে মুসা (আ.) ফেরাউনের কাছে তাওহিদের দাওয়াত নিয়ে যান। কিন্তু ফেরাউন নিজেকে ‘রব’ দাবি করে তার দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে।
কোরআনের সুরা নাজিআত ও সুরা ইউনুসে এই ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আজ আমি তোমার দেহ সংরক্ষণ করবো, যেন তা পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাকে।”
(সুরা ইউনুস: ৯২)
এই আয়াত ইঙ্গিত দেয় যে, ফেরাউনের মরদেহ ইতিহাসের এক বড় শিক্ষা হিসেবে আজও মানুষের সামনে রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরতের পর দেখতে পান ইহুদিরা আশুরার দিনে রোজা রাখে। কারণ হিসেবে তারা বলেছিল, এ দিন মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইল ফেরাউনের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। তখন রাসুল (সা.) বলেন, “আমি তোমাদের চেয়ে মুসার (আ.) অধিক ঘনিষ্ঠ।” এরপর তিনি নিজেও রোজা রাখেন এবং সাহাবাদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দেন।
(সহিহ মুসলিম: ২৫৪৮)
ফেরাউনের ধ্বংস ও মুসার (আ.) বিজয় কেবল একটি অতীত ঘটনা নয়, বরং প্রতিটি যুগের জন্য একটি শিক্ষা। তাওহিদে বিশ্বাস, জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরতা—এই তিনটি মূল বার্তা বহন করে আশুরার দিন।


