ট্রমার ছায়া কাটেনি শিক্ষার্থীদের মন থেকে, মাইলস্টোনে ক্লাস-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনার পর পাঁচ দিন পার হলেও শিক্ষার্থীরা এখনো মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় চলতি সপ্তাহেও প্রতিষ্ঠানটির সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে কবে থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্কুলের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের ইংলিশ ভার্সনের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন (অব.) জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, ক্যাম্পাসে এখনো একটি তদন্ত কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক পুনর্বাসনের জন্য তিনজন পেশাদার কাউন্সেলর নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্রচণ্ড মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্লাস-পরীক্ষা চালু করা সম্ভব নয়। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সম্ভবত আগামী সপ্তাহে ক্লাস চালু হতে পারে, তবে এখনো তা নিশ্চিত নয়।”
শনিবার সকাল থেকে স্কুলের গেটে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। কেউ কেউ ভেতরে ঢুকে নিজের সন্তানকে নিয়ে ঘুরে দেখেন ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রবেশে বাধা না থাকলেও সাংবাদিক ও উৎসুক জনসাধারণকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
বেলা ১১টার দিকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুনায়েদ সিদ্দিকী পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। অর্ধঘণ্টা পর বের হয়ে সাংবাদিকদের জানায়, “ওই দিন বিমান ভেঙে পড়ার সময় এমন বিকট শব্দ হয়েছিল, মনে হচ্ছিল কানের পর্দা ফেটে যাবে। চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময় পর দেখি, শিশুরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে, কেউ কেউ আগুনে পুড়েছে। সেই দৃশ্য এখনো চোখে ভাসে। রাতে ঘুমাতে গেলেও স্বপ্নে ভেসে ওঠে। এমন অবস্থায় পরীক্ষার কথা কল্পনাও করা যায় না।”
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিদ্যালয়ের একটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ৩৪ জন নিহত হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী।


